জেনে নিন কি ভাবে বানায় মুগের ডালের লাড্ডু

0
514

নিজস্ব প্রতিবেদন (দেবস্মিতা ঘোষ) ২৩.১০.২০২০

লাহা বাড়ির পুজোর প্রবর্তন কে করেছিলেন তা নিয়ে মতভেদ আছে বিস্তর।অসাধারণ কারুকাজ করা ঠাকুর দালান, আভিজাত্য আর প্রাচুর্যের শব্দ তুলে ওপরে ওপরে উঠে যাওয়া কাঠের সিঁড়ি কখনও আবার চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মন কেড়ে নেওয়া অ্যান্টিক পিস। হঠাৎ মনে হয় এক টুকরো পুরনো কলকাতা এখনও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে টুকটুকে লাল বাড়িটায়। আগে লোকে এই বাড়িটকে বলত ‘ল’ বাড়ি। এই বাড়ির দুর্গা  পুজো  নাকি হত দেখার মত। হবে নাই বা কেন ? সেই সময় জমিদার বাড়িগুলির মধ্যে তো রেষারেষি কম ছিল না। সেই সঙ্গে এঁরা সবাই ছিলেন বাবু কালচারের পৃষ্ঠপোষক। কাজেই পুজোকে উপলক্ষ্য করে বাবুদের নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করার ধূম পড়ে যেত। লাহারা যেমন ছিলেন অর্থবান তেমনই প্রভাবশালী। পুজোর উপাচার আয়োজনে কীভাবে অন্য বাড়িকে তাক লাগিয়ে দেওয়া যায় সেটা এই বাড়ির কর্তারা বিলক্ষণ জানতেন। তবে জাঁকজমক যতই থাক, এই পুজোতে দেবী মায়ের প্রতি আন্তরিক ভক্তিতে খামতি পড়েনি কোনওদিনও। প্রাণকৃষ্ণ লাহা , নবকৃষ্ণ লাহা, শ্রীকৃষ্ণ লাহা এই বাড়ির বড় তরফ মেজ তরফ এবং ছোট তরফ। লাহা পরিবারে তিনটি তরফে পালা করে প্রতি বছর পুজো হয়।

লাহা বাড়ির পুজোর প্রবর্তন কে করেছিলেন তা নিয়ে মতভেদ আছে বিস্তর। মনে করা হয় বর্ধমানের বড়শূলে প্রথম পুজো শুরু করেন বনমালী লাহা। এরপর মধুমঙ্গল লাহা চুচুঁড়ার বাড়িতে পুজো শুরু করেন। কলকাতায় এই পুজো শুরু করেন দুর্গাচরণ লাহা। শিবচরণ লাহা ইংরেজদের সঙ্গে পেন খাতাপত্র এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পুজোর জাঁকজমকও বাড়ে এই সময়। লাহা বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। এখানে ঠাকুরের রূপ অন্যরকম। একচালা মূর্তি হয়। শিবের কোলে দেবী দুর্গা উপবিষ্টা। শিবের বাহন ষাঁড়। লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণেশ আছেন তাঁর দুইপাশে। দেবীর দুই হাত এবং তাতে কোনও অস্ত্র নেই। মহিষাসুর থাকেন না এই মূর্তিতে। সেই জন্যই এই বাড়িতে দুর্গা মহিষাসুর মর্দিনী রূপে পূজিত হন না। কখনও তাঁকে বলা হয় অভয়া কখনও হরগৌরী কখনও বা আবার হরপার্বতী মূর্তি। লাহা পরিবারের কুলদেবী অষ্টধাতুর সিংহবাহিনী মূর্তি জয়জয় মা।

উপকরণ:-

 মুগডাল ২৫০ গ্রাম,

 ঘি হাফ কাপ,

 চিনি ১ কাপ চিনি টা গুড়ো করে নিতে হবে,

 গুড়া দুধ ২ টেবিল চামচ,

 পেস্তা, কাজু, কাঠ বাদাম, কিশমিশ পছন্দমত,

প্রণালী:-

মুগডাল ধুয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে ২/৩ ঘন্টা, এর পর শুকনো খোলায় হালকা ভেজে ঠান্ডা করে বেটে নিতে হবে।

কড়াইয়ে ঘি গরম করে বেটে রাখা ডাল ও বেটে রাখা চিনি দিয়ে নাড়তে হবে, চুলার জ্বাল খুব হালকা আঁচে দিয়ে নাড়তে হবে।

এরপর গুড়া দুধ দিয়ে ভাল করে নাড়তে হবে যতক্ষন না কড়াই থেকে মিশ্রন টি ছেড়ে আসে ব্রাউন কালার হয়ে আসলে মিশ্রন টি নামিয়ে নিতে হবে।

লাড্ডু বেশি ঠান্ডা করা যাবে না হালকা গরম থাকতেই যেন হাতে সহ্য হয় হাতের তালুতে ঘি মাখিয়ে নিজের পছন্দ মত শেপ দিতে হবে লাড্ডু ছোট করলে ছোট বড় করলে বড় নিজের পছন্দমত শেপ দিয়ে তৈরি হয়ে গেল মজাদার মুগডালের লাড্ডু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here