গণিতে নোবেল পুরস্কার না দেওয়ার কারণ জানেন?

0
53

 

নিজস্ব সংবাদদাতা(সুপর্ণা নস্কর), ২৪/১০/১৯

প্রতিবছরই নোবেল নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায় দেশবাসিদের মধ্যে।আর প্রতিবারের নোবেল মরশুম শেষ হয় আলফ্রেড নোবেল এর স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানের পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে। প্রতিবারই একটা প্রশ্ন সামনে উঠে আসে। অংকের জন্য নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয় না কেন!

গবেষকরা এর উত্তর খোঁজেন, এবং সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয় এ ধরনের পুরস্কারের কথা আলফ্রেড নোবেল ভাবেননি। একটা জনপ্রিয় মিথ হল নোবেল গণিতবিদদের পছন্দ করতেন না, কারণ একজন গণিতবিদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আলফ্রেড নোবেল আদতে বিয়েই করেননি। অন্যদের দাবি নোবেল তাঁর তালিকা থেকে গণিতবিদদের বাদ রেখেছিলেন, কারণ তাঁর আশঙ্কা ছিল সুইডিশ গণিতবিদ গোস্টা মিটাগ-লেফলার এই পুরস্কার পেয়ে যেতে পারেন। গোস্টার সঙ্গে ভিয়েনার সোফি হেসের সম্পর্ক ছিল বলে ধরে নেওয়া হয়, যে সোফির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল আলফ্রেড নোবেলেরও। বিশেষজ্ঞরা এ ধারণাকেও খারিজ করে দিয়েছেন, কারণ তার খুব বেশি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পাঁচটি বিষয়কে নোবেল বেছেছিলেন কীভাবে

১৮৮৮ সালে ফরাসি এক শোকবিজ্ঞপ্তিতে ডিনামাইটের আবিষ্কর্তা আলফ্রেড নোবেলকে মৃত্যুব্যবসায়ী বলে বর্ণনা করা হয়। সংবাদপত্রে একটি ভুল করেছিল, তখন মারা গিয়েছিলেন আলফ্রেড নোবেল (১৮৩৩-১৮৯৬)-এর ভাই লুডভিগ নোবেল। এ ঘটনায় আলফ্রেড নোবেল অত্যন্ত মর্মাহত হন। তিনি চাননি তাঁর সত্যিকারের শোকবিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুব্যবসায়ী কথাটি উল্লিখিত হোক। সে কারণেই তিনি এই পুরস্কার চালুর পরিকল্পনা করেন। ২০১৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অফ চাইনিজ ম্যাথমেটিশিয়ানদের একটি নোটিসে এমনটাই লিখেছেন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ লিঝেন জি।

আলফ্রেড নোবেল পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নকে বেছেছিলেন তার কারণ তিনি নিজে ছিলেন বৈজ্ঞানিক। জি লিখেছেন, আলফ্রেড নোবেল নিজে স্বাস্থ্যবান মানুষ ছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিকে তিনি গুরুত্ব দিতেন, সে কারণেই চিকিৎসাশাস্ত্রকে পুরস্কারের জন্য বেছেছিলেন তিনি। এ ছাড়া যে পুরস্কার তিনি চালু করেছিলেন তা হল শান্তি পুরস্কার। নোবেলের ধারণা ছিল এই পুরস্কার একদিন দেওয়া হবে ব্যারনেস বার্থা ভন সাটনেরকে, যে মহিলার সঙ্গে নোবেলের একদা সম্পর্ক ছিল। ঘটনাচক্রে বার্থা নোবেলের মৃত্যুর কয়েকবছর পর নিজের উপন্যাস লে জাউন ইওর আর্মস উপন্যাসের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

গণিতের জন্য পুরস্কার

গণিতবিদ লার্স গোর্ডিং এবং লার্স হোরমান্ডার তাঁদের গবেষণা বলেছেন, “স্বাভাবিক কারণেই গণিতের বিষয়ে পুরস্কারের কথা নোবেলের মনে হয়নি।” জি লিখেছেন, “নোবেল তাঁর নিজের কাজে বা ব্যবসায় খুব বেশি অংক ব্যবহার করেননি, এবং নিজে এ বিষয়টিকে কখনও পছন্দও করেননি।”

গণিতের ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য অন্য পুরস্কার রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথামেটিক্যাল ইউনিয়ন কানাডার গণিতবিদের নামাঙ্কিত দ্য ফিল্ডস মেডেল দিয়ে থাকে। এ পুরস্কার দেওয়া হয় ৪০ এর কম বয়সী গণিতবিদদের। নরওয়ের সরকার প্রতিভাবান গণিতবিদ নেইলস হেনরিক আবেলের নামাঙ্কিত আবেল পুরস্কার দিয়ে থাকে। অন্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে শ পুরস্কার, কিং ফয়জল ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার, উলফ পুরস্কার ইত্যাদি।

বহু ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার গণিতবিদ এবং গণিত সম্পর্কিত কাজকর্মকে একাধিকবার স্বীকৃতি দিয়েছে। বার্ট্রান্ড রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যের জন্য নোবেল পেয়েছেন, ম্যাক্স বর্ন এবং ওয়াল্টার বোথ ১৯৫৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন কোয়ান্টাম মেকানিকসে পরিসংখ্যানমূলক কাজের জন্য এবং ১৯৯৪ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান বিশিষ্ট গণিতবিদ জন ন্যাশ, তাঁর গেম থিওরির কাজের জন্য।

মিথের মায়াজাল সরিয়ে

ওয়ারউয়িক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের প্রফেসর এমিরেটাস ইয়ান স্টুয়ার্ট লিখেছেন সোফি হেসের সঙ্গে গণিতবিদ মিটাগ-লেফলারের যোগাযোগের কোনও প্রমাণ নেই।

স্টুয়ার্টের সঙ্গে ই মেলে কথা হয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। তিনি বলেছেন নোবেল এবং মিটাগ-লেফলারের মধ্যে শত্রুতার ধারণা বাস্তবোচিত নয় বলে মনে করেন অনেকেই। নিজের বইয়ে স্টুয়ার্ট উল্লেখ করেছেন নোবেল যখন প্যারিসবাসের জন্য সুইডেন ত্যাগ করেন, তখন মিটাগ লেফলার অল্পবয়সী ছাত্র মাত্র, অর্থাৎ দুজনের মোলাকাতের সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ।

আরও পড়ুনঃআশ্চর্য বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এই গাধারা এখন কি হালে আছে জানেন!
স্টকহোমে মিটাগ-লেফলারের নামাঙ্কিত একটি গণিত গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে একদম শুরুতে যাঁরা কর্মরত ছিলেন, তাঁদের একজনের নাম সোনিয়া কোয়ালেভস্কি। জি-র গবেষণা অনুসারে জাতিতে রাশিয়ান সোনিয়ার অনেক অনুরাগী ছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন আলফ্রেড নোবেল। তিনিও গণিতবিদ ছিলেন।

“মিটাগ-লেফলার একজন সুযোগ্য গণিতবিদ ছিলেন, কিন্তু সত্যিটা হল এরকম পুরস্কার জেতার মত যথেষ্ট ভাল তিনি ছিলেন না।এগুলো খুবই বোকা বোকা প্রশ্ন। নোবেল ভূগোল, প্রত্নতত্ত্ব, এঞ্জিনিয়ারিং, পেইন্টিং, ভাস্কর্য, সংগীত বা ফুটবলের জন্যও পুরস্কারের বন্দোবস্ত করেননি। এ ছাড়াও মানুষের কাজের অজস্র ক্ষেত্র রয়েছে। সবকিছুতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে গেলে তো ওঁকে দেউলিয়া হয়ে যেতে হত।”এমনটাই বলেন স্টুয়ার্ট

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here