ভারতের শেষ গ্রাম কোনটি জানেন?পুজোর ছুটিতে একবার ঘুরতে যেতে পারেন সেখানে

0
30

 

সংবাদটিভি ওয়েবপেজ, ০১/১০/১৯

ভারতের অনেক জায়গা আছে যেগুলি আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত অজানা।অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে সজ্জিত সুচতুর কমান্ডো খুব সংগোপনে এগিয়ে চলেছে পাথুরে রাস্তা ধরে। চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। কোথাও কোনো সবুজ নেই। হঠাৎ অনুচ্চ কোনো ধূসর পাহাড়ের চূড়া থেকে শত্রুঘাঁটির অবস্থান বোঝা গেল। বাইনোকুলারে চোখ লাগিয়ে কমান্ডো নিশ্চিত হয়ে নিল শত্রুঘাঁটির অবস্থান। সেই সঙ্গে দেখে নিল চারদিক। কয়েকটা ঝাউগাছ, দু–একটা পাটা ঝোপ, নাম না–জানা ফুলগাছ সবুজ ছড়িয়ে যাচ্ছে সেখানে। কমান্ডো তার স্নাইপার গান তাক করল।

কম্পিউটারে খেলা কমান্ডো গেমের এই দৃশ্যের সঙ্গে ভারতের জম্বু-কাশ্মীর রাজ্যের লেহ্ অঞ্চলের কিছুটা মিল আছে। এখানেও আছে সবুজহীন ধূসর অনুচ্চ পাহাড়, পাথুরে রাস্তা। এমন প্রতিকূল পরিবেশ পার হয়ে আপনি যখন তুরতুক নামে ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের শেষ গ্রামটিতে উপস্থিত হবেন, তখন পাবেন প্রাণ মাতানো সবুজের ছোঁয়া। তখন আপনি ক্যামেরার লেন্স তাক করতে পারেন ধূসর পাহাড়ের প্রেক্ষাপটে থাকা নাম না জানা ফুলের দিকে।

নুব্রা থেকে তুরতুক যাওয়ার পুরো পথে একবারের জন্যও কোথাও সবুজের দেখা পাইনি। মাঝে একবার পাহাড় থেকে বেশ সমতলে নেমে যাওয়ায় হুট করেই এক চিলতে সবুজ চোখে পড়েছিল কোথায় যেন। এরপর আবার সেই ধূসর রুক্ষ পাহাড়, ঝুরো মাটির দেয়াল, গোঙানো নদী, অসহ্য শীত, ঢুঁ ঢুঁ প্রান্তর, পাথর ছুটে আসা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ। ভেবেছিলাম তুরতুকও এমনই হবে—কোথাও সবুজের কোনো চিহ্ন নেই, চারদিকেই শুধু রুক্ষতা আর রুক্ষতা। কিন্তু তুরতুক পৌঁছে যা দেখলাম এক পলকে, আমার মুখ থেকে নিজের অজান্তেই বেরিয়ে এল—এ যে বিধাতার আশীর্বাদ!

এই গ্রামের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে! শুধু ভারতের লেহ শহর থেকেই এই গ্রামের দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার! যেতে সময় লাগে আট থেকে নয় ঘণ্টা। তিন হাজারজনের চেয়ে কিছু বেশি মানুষের বসবাস এই গ্রামে। তুরতুকের গ্রামের চারপাশ পাহাড় দিয়ে ঘেরা। সেসব পাহাড়ে কোথাও নেই গাছ, ঘাস বা সবুজের এতটুকু ছোঁয়া। চারপাশের পাহাড়গুলো কোনোটি পাথুরে, কোনোটি মাটির, কোনোটি বরফের, কোনোটি ইস্পাতের মতো কঠিন। শুধু অদ্ভুতভাবে এই তুরতুক নামের গ্রামটির সবটুকুই সবুজে মোড়ানো! বিধাতার বিশেষ আশীর্বাদ ছাড়া এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তুরতুক ভারতের জম্বু-কাশ্মীর রাজ্যের লেহ জেলার নুব্রা তেহসিলের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আনুষ্ঠানিকভাবে এই পথে ভারত-পাকিস্তানে চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। এখান থেকে পাকিস্তান সীমান্ত মাত্র আট কিলোমিটার দূরে।

তুরতুক গ্রামে ধান থেকে শুরু করে গম, জব, আলু, কপিসহ অন্যান্য তরকারি, আপেলসহ নানা রকম ফলমূলের চাষ হয় নিয়মিত। নানা রকম ফুল, পাথুরে বাড়ি, ঝরনার বিশুদ্ধ জল সবই আছে এখানে। আছে উত্তাল, খরস্রোতা সায়ক নদ। গায়ে গায়ে লেপটে থাকা পাহাড়ের সারি, পাহাড় থেকে বয়ে চলা ঝরনা, ঝিরি ও নদী। এই গ্রামের আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই গ্রামের বাইরের পাহাড়গুলো যখন বরফে মোড়ানো থাকে, তখন এখানে বরফ পড়লেও সেটা জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার মতো খুব বেশি নয়। এখানে বরফ পড়ে ঠিকই, কিন্তু একটু রোদের পরশ পেলেই সেই বরফ দ্রুত গলে জল হয়ে পাশের সায়ক নদে চলে যায়।

আরও পড়ুনঃভিন্ন স্বাদের পাবদা মাছে আমড়ার টক
তুরতুকের সব ঘরবাড়িই পাথরের। শুধু পার্থক্য এই যে যাদের আর্থিক অবস্থা একটু ভালো, তারা পাথর সাইজ মতো করে কেটে নিয়ে কিছু সিমেন্টের ব্যবহার করে সাজানো বাড়ি বানাতে পারে। আর যাদের সেই অবস্থা নেই, তারা নিজেদের মতো করে পাথর সংগ্রহ করে একটার পর একটা বসিয়ে দেয়, কখনো নদীর কাদার সাহায্যে বা শুধু পাথরের স্তূপ সাজিয়েই বানিয়ে ফেলে বসবাসের জন্য আস্ত ঘর বা বাড়ি!

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here