সিঙ্গুরের ব্যাপারে সরকারের নীতি কি? শিল্প না কৃষি!

0
46

নিউজ ডেস্ক(২৭.০৯.১৯)

সিঙ্গুর কেন এত বিখ্যাত সেটা সবাই জানে, সিঙ্গুর নামক জায়গাটি কোথায় অবস্থিত এবং এখানে কি চাষ করা হতো সেটাও অনেকেই জানেন আবার তার রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিটাও জানেন। সিঙ্গুর জায়গাটি হুগলি জেলায় অবস্থিত এবং দো ফসলি চাষের জন্যই বিখ্যাত। সিঙ্গুরের শতকরা ৯০% জমি চাষাবাদে যুক্ত। এর মধ্যে ১০০০ একর জমি নিয়ে ২০০৬ সালে টাটা কোম্পানিকে দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে এখানে টাটা কোম্পানি ন্যানোর কারখানা নির্মাণ শুরু করে। সেই সময় জানা যায় যে কোম্পানীর তরফ থেকে কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি এবং জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোর্টে জানান ৩০% চাষী ক্ষতিপূরণের চেক নিতে রাজি হননি। ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে ব্যাপক ব্যাপক গণ আন্দোলনের মুখে পড়ে টাটা কোম্পানী এবং এই আন্দোলনের ফলে টাটা কোম্পানী তাদের কাজ বন্ধ রাখেন এবং পরবর্তীকালে টাটা কোম্পানী তাদের কারখানা গুজরাটে স্থানান্তরিত করেন। ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুর মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন… মোবাইল না রেডিও!মানুষ মহালয়া শুনতে কোনটাতে বেশি আগ্রহী ?

বিচারপতি অরুণ কুমার মিশ্র ও বিচারপতি গোপাল গৌড়ার ডিভিশন বেঞ্চ ঘোষণা করেন যে এই জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন অবৈধ। তারা টাটা গোষ্ঠীকে চাষীদের জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় ১২ সপ্তাহের মধ্যে অনিচ্ছুক জমি দেওয়ার। এই মামলাকে ঐতিহাসিক রায় বলার কারণ এই ধরনের আন্দোলন হয়ত অন্য কোন রাজ্যে হয়নি। এই মামলার প্রভাব কিন্তু রাজনৈতিক ব্যাপ্তি ছাড়িয়ে সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিসরে বিস্তৃত।অনেকেই ভেবেছিলেন কারখানা স্থাপিত হলে হয়তো কয়েক হাজার যুবক-যুবতী প্রত্যাশা পূরণ হবে আবার অন্যদিকে অনেকেই ভাবছেন কারখানা স্থাপিত হলে কৃষি ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হবে যেটা অনেকের কাছে অসহনীয়।এতো বড় আন্দোলন সংঘটিত হওয়ার পরে এখন অনেকের নজর সরকারের ওপর। সরকার এখন শিল্প না কৃষি কোন নীতি নিয়ে সামনে এগিয়ে চলে সেটাই এখন দেখার।

Loading...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here