বাঁকুড়া জেলার কোন জায়গাগুলো পর্যটকদের মূল আকর্ষণের, জেনে নিন………

0
28

বাঁকুড়া জেলার কোন জায়গাগুলো পর্যটকদের মূল আকর্ষণের, জেনে নিন……

নিজস্ব সংবাদদাতা(সুপর্ণা নস্কর),১৩/০৮/২০১৯

চোখের সামনে লাল মাটির কাঁকুরে পথ, সঙ্গে রাস্তার দুই পাশে টুকরো টুকরো ইতিহাস আর ছিন্নমস্তার মন্দির। পাহাড়ি এলাকায় ঘেরা টেরাকোটার স্থাপত্য, গ্রাম্য জনজীবন এবং অজস্র মন্দিরে সেজে উঠেছে ঐতিহাসিক বাঁকুড়া জেলা।

বাঁকুড়ার যে যে দর্শনীয় জায়গাগুলি সাধারণ মানুষকে চিরকাল আকর্ষণ করে এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মন্দিরের শহর বিষ্ণুপুর। এছাড়া শুশুনিয়া পাহাড়, বিহারীনাথ পাহাড়, একতেশ্বর মন্দির, ঝিলিমিলি, রাসমঞ্চ মন্দির, জোড়বাংলো মন্দির, শ্যাম রাই মন্দির, মদন মোহন মন্দির, সূতান অরণ্য, মাল্লেশ্বর মন্দির, কালাচাঁদ মন্দির, সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির, গোকূলেশ্বরের পঞ্চরত্ন মন্দির ইত্যাদি আরও সব জায়গার আকর্ষণে মানুষ ছুটে যায় লাল মাটির দেশ বাঁকুড়ায়।

আসুন জেনে নিই বাঁকুড়ার বিশেষ পর্যটন কেন্দ্রগুলি, যেগুলি না দেখলে আপনার ভ্রমণই সার্থক হবেনা।

বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে আছে ‘শ্যাম রাই মন্দির।আর এটি ‘পঞ্চরত্ন’ বা ‘পঞ্চচূড়া’ নামেও সমধিক পরিচিত। মন্দির’টির নির্মাতা রাজা রঘুনাথ সিংহ দেব। টেরাকোটার ধাঁচে নির্মান কড়েছিলেন সমগ্র মন্দিরটি। রাসচক্র এবং প্রেম সংক্রান্ত শিল্পকলা’গুলি পোড়ামাটির সাহায্যে টেরাকোটার শিল্পশৈলীর মাধ্যমে খুব সুন্দর ভাবে মন্দিরের দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ভ্রমনার্থী’রা এখানকার বিখ্যাত বালুচরি সম্ভার একবার দেখে নিতে পারেন। এছাড়া আপনি এখান থেকে ঘর সাজানো বা ব্যাক্তিগত সংগ্রহে রাখার জন্য বিভিন্ন টেরাকোটার শিল্প নিদর্শন সংগ্রহ করতে পারেন। সারা বছরই এখানে ভ্রমণ করা যায়।

এছাড়াও এখানে আছে ‘রাসমঞ্চ মন্দির’। বিষ্ণুপুরের অপর একটি শৈল্পিক নিদর্শন হলো ‘রাসমাচা’ বা ‘রাসমঞ্চ মন্দির’। ল্যাটেরাইট পাথরে তৈরি এই স্থাপত্য’টি দেখতে অনেকটা পিরামিড ধাঁচের। এটি’তে কিছুটা ইসলামিক স্থাপত্যের ছোঁয়া’ও দেখতে পাওয়া যায়। এই মাচা বা মঞ্চ ধাপে ধাপে পিরামিডের আকারে উপরে উঠে গিয়েছে।

বিষ্ণুপুর ছাড়িয়ে বাঁকুড়ার উত্তর-পশ্চিম দিকে রয়েছে বিহারীনাথ পাহাড়। এখানে বিহারীনাথ মন্দির এবং বিহারী বাবার আশ্রম বিশেষ দ্রষ্টব্য। পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার সীমান্তে অবস্থিত বিহারীনাথ পাহাড়। এমন সুন্দর একটি দর্শনীয় স্থান। যেখানে গেলে দর্শনার্থীদের মন শান্ত এবং পরিতৃপ্ত হয়ে যাবে ।পর্যটকদের মধ্যে যারা একটু ছবি তুলতে ভালবাসেন, তারা অবশ্যই একবার ঘুরে আসুন এই জায়গা। হানিমুনের জন্যও আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়।

বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ে অবস্থিত আরেক আকর্ষণীয় স্থান পঞ্চতন্ত্র মন্দির। এটি মুলত একটি রাধামাধব মন্দির।

আরও পড়ুনঃ ঘরে বসেই বানিয়ে ফেলুন মজাদার চিংড়ি-রসুন রেসিপি…..

বাঁকুড়া জেলায় যেসকল দ্রষ্টব্য স্থান আছে, তার মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখ্য বিষ্ণুপুর ও মুকুটমণিপুর। এখানকার মন্দিরগুলির দেওয়ালে অসামান্য টেরাকোটার শিল্প নিদর্শন দেখতে সারা বিশ্ব থেকে ভ্রমনার্থীরা ছুটে আসেন। কোনও মন্দিরের দেওয়ালে পাবেন প্রেমের নিদর্শন, আবার কোনোটায় বা আছে মহাভারতের ঘটনাবলী বা শিকারের ঘটনা। মন্দিরগুলির দেওয়ালে পোড়ামাটির অলংকরণ অসাধারণ।

বিষ্ণুপুর সমাপ্ত করে এগিয়ে যায় ‘মুকুটমণিপুর’ এর দিকে। কংসাবতী আর কুমারী নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত মুকুটমণিপুর। বিষ্ণুপুর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাঁকুড়ার এই বিশেষ দর্শনীয় স্থান’টি। রাস্তার দু’পাশে অবস্থিত আকাশমণি গাছের সমাহার দেখে পর্যটক’দের চোখ জুড়িয়ে যাবে। দিগন্তে হাতছানি দিয়ে ডাকবে ছোটো-বড়ো অজস্র টিলা। জলাধার ভেঙে পার্শ্বনাথ পাহাড়ের মাথায় রয়েছে পার্শ্বনাথ স্বামীর মন্দির। পাশেই আছে বিশালাকার শিবলিঙ্গ। মন্দির দর্শনের পর দিনান্তে সুখের বিদায় নেবার অপরূপ মায়াবী দৃশ্য অনেক অনেক দিন স্মৃতি’তে থেকে যাবে। জলাধারে দাড়িয়ে থাকা নৌকোয় জলবিহারের মজা নিতে পারেন। এই স্থানেও অনেক মন্দির আছে, যেমন – অম্বিকা মাতার মন্দির, ভৈরব মন্দির। এছাড়াও আছে সংরক্ষিত অরণ্য, টিকিট কেটে ঘুরে আসতে পারেন পরিবারের সাথে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here