চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল মহম্মদ শেহজাদ

0
12

চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল মহম্মদ শেহজাদ

 নিজস্ব সাংবাদদাতা(সায়ন্তনী বড়াল), ১১/৬/১৯

আইসিসি বিশ্বকাপের আসরে বড়সড় বিতর্ক দেখা দিল আফগানিস্তান দলকে নিয়ে৷ বরং বলা ভালো আরও একবার অবাঞ্ছিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল আফগান ক্রিকেট৷ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন চোটের জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া আফগানিস্তানের তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মহম্মদ শেহজাদ৷ তাঁর দাবি, ফিট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে চক্রান্ত করে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়া হয়েছে৷

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচের সময় হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন শেহজাদ৷ তবে দিন তিনেকের বিশ্রামে ম্যাচ ফিট হয়ে তিনি বিশ্বকাপের প্রথম দু’টি ম্যাচে মাঠে নামেন৷ ১ ও ৪ জুন যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের উইকেটকিপারের দায়িত্ব পালণ করেন তিনি৷ তবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচের আগে আফগান বোর্ডর তরফে ঘোষণা করা হয় হাঁটুর চোটের জন্য বিশ্বকাপে আর মাঠে নামতে পারবেন না শেহজাদ৷ তাঁর পরিবর্ত হিসাবে তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ইকরম আলি খিলকে স্কোয়াডে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়৷

বিশ্বকাপের আসর থেকে মাঝপথেই দেশে ফিরে শেহজাদ বলেন, ‘আমি এখনও জানি না কেন আমাকে আনফিট ঘোষণা করা হল৷ মাঠে নামার জন্য যথেষ্ট ফিট ছিলাম আমি৷ বোর্ডের কিছু কর্তা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে৷ সেই চক্রান্তেরই শিকার আমি৷ শুধু মাত্র ম্যানেজার, ডাক্তার আর ক্যাপ্টেন জানত যে, আমার পরিবর্ত চাওয়া হয়েছে৷ এমন কী কোচও জানতেন না বিষয়টা৷ এটা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক৷’

৩২ বছরের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার কাবুল থেকে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে আমি অনুশীলন সেরে সবে মাত্র ড্রেসিংরুমে ফিরেছি৷ নিজের ফোন চেক করে আইসিসি’র প্রেস রিলিজে দেখি যে হাঁটুর চোটের জন্য আমি না-কী বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছি৷ আমার মতোই দলের কারও কাছে এই নিয়ে কোনও খবর ছিল না৷ টিম বাসে ফেরার সময় সবাইকেই হতভম্ভ দেখায়৷’

বোর্ডের চক্রান্তের শিকার হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর কার্যত খেলা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন শেহজাদ৷ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলাম৷ লন্ডনে এক ডাক্তার হাঁটু থেকে জলীয় পদার্থ বার করে দেওয়ার পর বলেন, দু’তিন দিন বিশ্রাম নিলেই আমি মাঠে নামতে পারব৷ আমি যথাযথ বিশ্রাম নিয়ে ফিট হয়ে গিয়েছিলাম৷ আমি জানিনা আমাকে নিয়ে বোর্ডের ঠিক কী সমস্যা রয়েছে৷ যদি আমাকে খেলাতে কোনও সমস্যা থাকে তো সেটা বলা উচিত৷ তাহলে আমি খেলা ছেড়ে দেব৷ তবে এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বার করে দেওয়াটা অন্যায়৷ ২০১৫ বিশ্বকাপে আনফিট ঘোষণা করে দলে নেওয়া হয়নি৷ এবার এখানে এভাবে বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হল৷ বিশ্বকাপ খেলা সব ক্রিকেটারের স্বপ্ন৷ এর পর আর ক্রিকেট খেলার কোনও মানে হয় না৷ বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব৷’

অন্যদিকে, আফগান ক্রিকেট সংস্থার সিইও আসাদুল্লা খান শেহজাদের অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেন, ‘শেহজাদ যা বলেছে, সেটা একেবারেই সত্যি নয়৷ আইসিসি’র কাছে যথাযথ মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেই পরিবর্ত পাওয়া যায়৷ দল কোনওভাবেই একজন আনফিট ক্রিকেটারকে মাঠে নামাতে পারে না৷ বুঝতে পারছি বিশব্কাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ও হতাশ৷ তবে দল ওর ফিটনেস নিয়ে কোনও ভাবেই সমঝোতা করতে পারে না৷’

আফগান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়৷ বিশব্কাপের ঠিক আগে অধিনায়ক বদল নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছিল৷ নবি, রশিদের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা যার বিরোধিতাও করেছিলেন৷ আফগান কোচ ফিল সিমন্সও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বোর্ডের সিদ্ধান্তে৷ যে কারণে তিনি চুক্তি নবিকরণ করতে চান না বলে বিবৃতিও দিয়েছেন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here