বিশ্বকর্মা আরাধনার দিনেই ঘুড়ি ওড়াতে হয়…কেন জানেন?

0
229

নিজস্ব প্রতিবেদন (মৌটুসি রায়)১৬/৯/২০ :বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশে ঘুড়ির মেলা। কিন্তু এই দিন ঘুড়ি কেন

ওড়ানো হয় জানেন?

পুরাণ মতে, বিশ্বকর্মা হলেন দেবলোকের কারিগর- সোজা কথায় যাকে

বলা যায় দেবতাদের ইঞ্জিনিয়ার অথবা প্রকৌশলী। ব্রহ্মার আদেশে

বিশ্বকর্মা দেব এই ধরাধামকে নিজে হাতে তৈরী করেন। কৃষ্ণের বাসস্থান

দ্বারকা নগরী গড়ে ওঠার পিছনেও রয়েছে এই দেবতার হাত। ঋগবেদ

অনুসারে, বিশ্বকর্মা হলেন স্থাপত্য এবং যন্ত্রবিজ্ঞান বিদ্যা অথবা স্থাপত্য

বিদ্যার জনক।
বিশ্বকর্মা দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথও তৈরি করেছিলেন। তা স্মরণ

করতেই পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন শুরু হয়। শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার,

বিল্ডার,কারিগরদের কাছে এ’ হল এক বিশেষ দিন। যেইসব জায়গাতেই

যন্ত্র-কারিগরির কাজ হয় সেখানেই বিশ্বকর্মা পুজো দেখতে পাওয়া যায়।

কথিত আছে, রাজ আমলে বর্ধমান রাজবাড়িতেও ঘুড়ি ওড়ানোর চল

ছিল। রাজা মহতাবচাঁদ নাকি নিজেই ঘুড়ি ওড়াতেন। বর্ধমানের রাজারা

এসেছিলেন পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে। সেখানে ঘুড়ি উৎসব বেশ জনপ্রিয়।

বর্ধমানের রাজাদের হাত ধরেই বর্ধমানে ঘুড়ি উৎসবের চল বলে মনে

করা হয়।

ঘুড়ি আর মাঞ্জা ‘মেড ফর ইচ আদার’৷ একটা সময় পাড়ায় পাড়ায়

দল বেঁধে রাত জেগে সুতোয় মাঞ্জা দেওয়ার ছিল রেওয়াজ৷ এখন

সে-সবও উধাও৷ সময়ের অভাবে মাঞ্জা দেওয়া সুতো কিনেই ঘুড়ি ওড়ায়

এখনও কিছু উত্সাহী মানুষ৷ এক সময় কলকাতার আশে-পাশেই এই

মাঞ্জা সুতো তৈরি হত৷ কিন্ত্ত এখন কারিগরের অভাব শুধু ঘুড়ি

বানানোতেই নয়, সুতোতেও হয়েছে৷ এখানে ভালো মাঞ্জা দেওয়া সুতো

তৈরির কারিগরের সংখ্যাও কমে গিয়েছে৷ এখন সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে

চাইনিজ সুতো৷ সম্প্রতি যে সুতোয় বাঁধা উড়ন্ত ঘুড়ি একটি বাচ্চার

মৃত্যুও ঘটিয়েছে দিল্লিতে৷ বহু জায়গাতে এই সুতো ব্যবহার নিষিদ্ধ করা

হয়েছে৷ তবু কলকাতার বিভিন্ন ঘুড়ির দোকানে এই সুতো বিক্রি চলছে৷

এই বছর আনলক ৪-এ বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বাড়ির ছাদে অনেকেই

ঘুড়ি ওড়াবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শেষমেষ এবার বিশ্বকর্মা

পুজোর দিন ঘুড়িতে আকাশ কতটা রঙিন হয় সেটা সময়ই বলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here