যা খেতে ভালোবাসতেন গান্ধীজি…

0
229

পল্লবী সান্যাল : জীবন যাপন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। মনোভাব ছিল লড়াকু প্রকৃতির। ইতিহাসের পাতা ওল্টালেই জানা যায় স্বাধীনতার জন্য মহাত্মা গান্ধীর দীর্ঘ সংগ্রামের কথা। এর বাইরে গান্ধীজির ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কতজনেরই বা ধারণা রয়েছে? ঠিক সেরকমভাবেই অনেকের কাছেই অজানা রয়ে গিয়েছে গান্ধীজির খাদ্যাভাস বা পছন্দের খাবারের দিকটা।

মহাত্মা গান্ধীর বয়স যখন ১৮, ১৮৮৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পরিবারের ইচ্ছায় লন্ডনে ব্যারস্টারি পড়তে যান গান্ধীজি। যদিও তিনি চেয়েছিলেন ডাক্তারি পড়তে। তবে বিলেত যাওয়ার আগে জৈন সন্ন্যাসী বেচার্জীর সামনে তাঁর মার কাছে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে মাংস, সুরা ও নারীসঙ্গ থেকে বিরত থাকবেন তিনি। ইংরেজদের আদব কায়দা গ্রহণ করলেও তা ছিল পরীক্ষামূলক।

গান্ধীজির বিবাহিত জীবন থেকে ব্রক্ষ্মচর্য

একবার তিনি যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তার মালিক তাঁকে ভেড়ার মাংস ও বাঁধাকপি খতে দিয়েছিলেন। কিন্তু গান্ধীজি প্রতিজ্ঞা ভুলে তা খাননি। লন্ডনে নিরামিষ কাবারের দোকান খুব কমই ছিল। তা সত্ত্বেও মাকে দেওয়া কথা রাখতে প্রতিদিন নিরামিষ খাবারের দোকানের সন্ধান করতেন তিনি। একসময়ে “নিরামিষভোজী সংঘে” যোগ দেন এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন, এ সংস্থার একটি স্থানীয় শাখাও প্রচলন করেন। নিরামিষভোজী অনেক সদস্যই আবার থিওসোফিক্যাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন, যা ১৮৭৫ সালে সার্বজনীন ভাতৃত্বের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল এবং এতে ধর্ম শিক্ষায় বৌদ্ধ এবং হিন্দু ব্রাহ্মণ্য সাহিত্য পড়ানো হত। তারা গান্ধীকে ভগবত গীতা পড়তে উৎসাহিত করেছিলেন। আগে ধর্ম বিষয়ে তেমন কোন আগ্রহ না থাকলেও, গান্ধী হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইসলামসহ অন্যান্য ধর্ম এবং বিভিন্ন রীতি সম্পর্কে পড়াশোনা করেন।

গান্ধীজির রোজদিনের খাদ্য তালিকায় থাকতো ভাত, ডাল আর চাপাটি যা তাঁর শরীরে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতো। খাবারের শেষ পাতে থাকতো দই। গান্ধীজি বেগুন খেতে ভালোবাসতেন। তাও আবার সেদ্ধ করে। খাঁটি ও সাত্ত্বিক খাবারে বিশ্বাসী ছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তিনি এমন খাবার খাওয়ার বিপক্ষে ছিলেন যা উত্তেজনার সৃষ্টি করে। তেল নুন ছাড়াই সেদ্ধ সবজি খেতেন তিনি। বিশেষ করে বীট।

গান্ধীর মৃত্যু…
লাউ, কুমড়ো শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে. গান্ধিজি এই সবজিগুলি খেতে পছন্দ করতেন। কুমড়োর মরশুমেও  তিনি তা সেদ্ধ করে নিতেন। মিষ্টি জাতীয খাবারের মধ্যে তাঁর প্রিয ছিল পেডা। দুধের তৈরি গাঢ় ঘন একট সুষম খাদ্য। গুজরাতে এই ডেজার্টটি বিখ্যাত। পেডা ছাড়া একমাত্র গরুর দুধে তৈরি মিষ্টি খতেই পছন্দ করতেন গান্ধীজি। শাকসবজির পাশাপাশি খেতেন ফলমূল ও ফলের রসও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here