মা দুর্গার পাশে ২টি সিংহ, কোন বাড়ির পুজোয় দেখা যায় এমন দৃশ্য?

0
816

পল্লবী সান্যাল :  পশুরাজ সিংহ যে মা দুর্গার বাহন সেকথা অজানা নয় আট থেকে আশির। কিন্তু কীভাবে সিংহ মা দুর্গার বাহন হল তা জানেন না অনেকেই। সিংহর মা দুর্গার বাহন হওয়ার কাহিনী বর্ণিত রয়েছে মহিষাসুর বধ কাব্যে। পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানা যায়, দেবরাজ ইন্দ্রকে একদা যুদ্ধে পরাজিত করে ইন্দ্রলোকের অধিকারী হয় মহিষাসুর।  এদিকে বিতাড়ত দেবগণ তখন প্রজাপতি ব্রক্ষ্মা, মহাদেব ও নারায়ণের সমীপে উপস্থিত হন।মহিষাসুরের অত্যাচার ও ইন্দ্রলোক কেড়ে নেওয়ায় ক্রদ্ধ হন দেবগণ।  তাদের মুখমণ্ডল এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করে। বিষ্ণুদেব, মহাদেব, প্রজাপতি ব্রক্ষ্মার মুখ থেকে তখন নির্গত হয় এক মহা তেজ। সেইসঙ্গে ইন্দ্রলোকের অন্যান্য দেবতাদের দেহ থেকেও তেজ নির্গত হল এবং মহা তেজের সঙ্গে মিলিত হল। সুউচ্চ হিমালয় স্থিত ঋষি কাত্যায়নের আশ্রম এসে বিরাট তেজঃপুঞ্জ একত্রিত হয়ে এক নারীমূর্তি ধারণ করল। একেক দেবের প্রভাবে দেবীর এক এক অঙ্গ উত্‍পন্ন হল। প্রত্যেক দেবতা তাদের অস্ত্র দান করলেন। গিরিরাজ হিমালয় দেবীকে তার বাহন রূপে সিংহ কে দান করলেন। এই দেবী ও তার বাহন সিংহ মহিষাসুরকে বধ করলেন।

সিংহ কীভাবে মা দুর্গার বাহন হল সেকথা তো জানা গেল। এবার এক ব্যতিক্রমী তথ্য জানাবো আপনাদের। হুগলির চুঁচুড়ার দত্ত বাড়ির পুজোতে মা দুর্গার পাশে একটি নয় দেখা যায় দুটি সিংহ। এছাড়াও এই বহু প্রাচীন এই পুজোর বৈশিষ্ট্য হল দশের বদলে মা দুর্গার দুহাত।

রাতে ভিড় কমাতে দিনে দর্শনার্থী টানার পরিকল্পনা!

কলকাতার পাশাপাশি হুগলির ইতিহাসেও বহু প্রাচীন দুর্গা পুজো। হুগলির চুঁচুড়ায় দত্ত বাড়ির পুজোয় দুহাত বিশিষ্ট মা দুর্গার পাশে দেখা যায় দুটি সিংহ। সেই ১৮৬২ থেকে দত্ত বাড়িতে এই রূপেই পুজো পেয়ে আসছেন দেবী। এ বছর দত্ত বাড়ির পুজোর ১৫৮তম বছর।

পুজোর সূচনা হয়েছিল পরিবারের সদস্য তথা পাট ব্যবসায়ী সাগরলাল দত্তের হাত ধরে। বর্তমানে পুজো করেন পরিবারের ষষ্ঠ প্রজন্মের সদস্যরা। চুঁচুড়ার এক সরু গলির ভেতরে অবস্থিত দত্ত বাড়িতে অভয়া মূর্তিতে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। বাড়ির ঠাকুর দালানে একচালার প্রতিমা প্রথম তৈরি করেছিলেন শিল্পী কাশীনাথ পাল। বংশ পরম্পরায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাই দত্ত বাড়ির প্রতিমা তৈরি করে আসছেন।তবে মাটির তৈরি প্রতিমার পাশাপাশি পুজো করা হয় অষ্টধাতুর তৈরি প্রতিমারও। পুজো শেষে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর অষ্টধাতুর মূর্তিটি স্থান পায় ঠাকুর ঘরে।

মাটির মণ্ডপ থেকে সিমেন্টের মন্দির! সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজোর একাল সেকাল

রথযাত্রার দিনে কাঠামো পুজোর মাধ্যমে ঢাকে কাঠি পড়ে যায় দত্ত বাড়ির পুজোয়। মহালয়ার আগের দিন হয় মায়ের চক্ষুদান।তারপর ষষ্ঠীদতে বোধন দিয়ে শুরু হয় পুজো। পুজোর প্রতিদিনই হোম হয়। অষ্টমীতে ধুনো পোড়ানোর রীতি রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here