আশ্বিনে মহালয়া, হেমন্তে দুর্গোৎসব!

0
189

পল্লবী সান্যাল : আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া। সাধারণত মহালয়ার এক সপ্তাহের মাথায় হয় মা দুর্গার বোধন। কিন্তু এবছর দুর্গা ষষ্ঠী পড়েছে মহালয়ার ৩৫ দিন পরে ২২ অক্টোবর। ফলে প্রথমবার শরতের বদলে দুর্গা পুজো হতে চলেছে হেমন্তে। যা এককথায় নজিরবিহীন ঘটনা। কেন মায়র আগমন দেরিতে এবছর? এ প্রসঙ্গে পুরোহিতকুলের দাবি, আশ্বিনের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বর অমাবস্যা। এরপর ১৬ অক্টোবর ফের অমাবস্যা তিথি। দুই অমাব্যায় গেরোয় আশ্বিন হয়েছে মল মাস। যেহেতু মল মাসে কোনও শুভকাজে হাত দেওয়া যায় না সেই কারণেই দেবীর পুজোর দিন পিছিয়ে গিয়েছে কার্তিক মাসে।

মহালয়ার বিশেষত্ব ভোর বেলায় বেতারে দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের কাহিনীর সম্প্রচার। তবে সাম্প্রতিককালে টিভিতে প্রদর্শিত মহালয়াও বেশ জনপ্রিয় উঠেছে।

শাস্ত্র মতে, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গার বোধন হয় যার অর্থ জাগরণ। তাই মহালয়ার পর দেবীপক্ষ বা শুক্লপক্ষের প্রতিপদে ঘট বসিয়ে শারদোৎসবের সূচনা করা হয়। শ্রাবণ থেকে পৌষ – এই ছয় মাস দক্ষিনায়ণ, দক্ষিণায়ণ দেবতাদের ঘুমের কাল। তাই বোধন করে দেবতাদের জাগ্রত করা হয়। মহালয়ার পর প্রতিপদে যে বোধন হয় সে সময় সংকল্প করে দুর্গাপুজোর আয়োজন চলে। একে বলে কল্পরম্ভা, যদিও ষষ্ঠী থেকে পূজার প্রধান কার্যক্রম শুরু হয় তাই বলা হয় ষষ্ঠাদিকল্পরম্ভা। এবং সপ্তমী থেকে বিগ্রহতে। প্রতিপদ থেকে শুধু ঘটে পূজা ও চন্ডী পাঠ চলে।

শ্রী শ্রী চন্ডী গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ের কাহিনী অনুসারে, প্রলয়কালে পৃথিবী এক বিরাট কারণ–সমুদ্রে পরিণত হলে শ্রীবিষ্ণু সেই সমুদ্রের উপর অনন্তনাগকে শয্যা করে যোগনিদ্রায় মগ্ন হন। সেই সময় বিষ্ণুর কর্ণমল থেকে মধু ও কৈটভ নামে দুই দৈত্য নির্গত হয়ে বিষ্ণুর নাভিপদ্মে স্থিত ব্রক্ষ্মাকে বধ করতে উদ্যত হল। ভীত হয়ে ব্রহ্মা বিষ্ণুকে জাগরিত করবার জন্য তাঁর নয়নাশ্রিতা যোগনিদ্রাকে স্তব করতে শুরু করেন। সন্তুষ্ট হয়ে দেবী শ্রীবিষ্ণুকে জাগরিত করলে তিনি পাঁচ হাজার বছর ধরে মধু ও কৈটভের সাথে মহাযুদ্ধে রত হন। মহালয়া হল পিতৃপক্ষ আর দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ৷ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা প্রতিপদ শুরু হয়ে পরর্বতী অমাবস্যা র্পযন্ত সময়কে পিতৃপক্ষ বলে৷ পুরাণ মতে ব্রহ্মার নির্দেশে পিতৃপুরুষরা এই ১৫ দিন মনুষ্যলোকের কাছাকাছি চলে আসেন৷ তাই এই সময় তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু র্অপণ করা হলে তা সহজেই তাদের কাছে পৌছয়। তাই গোটা পক্ষকাল ধরে পিতৃপুরুষদের স্মরণ ও মননের মাধ্যমে র্তপণ করা হয়৷ যার চূড়ান্ত প্রকাশ বা মহালগ্ন হল এই মহালয়া৷ অনেকেই এই দিনটিকে দেবীপক্ষের সূচনা বলে থাকেন। যদিও এটি একটি জনপ্রিয় ভ্রান্ত ধারণা৷ মহালয়া পিতৃপক্ষের শেষ দিন৷ পরের দিন শুক্লা প্রতিপদে দেবীপক্ষের সূচনা হয়৷ সেই দিন থেকে কোজাগরী পূর্ণিমা পর্যন্ত ১৫ দিন হল দেবীপক্ষ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here