শিল্পনগরী হলদিয়ায় নেই বিশ্বকর্মা পূজার ধুম ..

0
252

নিজস্ব প্রতিবেদন (মৌটুসি রায়)১৬/৯/২০: হলদিয়াবাসীর শ্রেষ্ঠ উৎসব বিশ্বকর্মা পুজো এবার নমঃ নমঃ করেই

সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্প সংস্থাগুলি।

আর যার ফলে বেজায় সংকটে এই জেলার মৃৎশিল্পীরা। বিশ্বকর্মা পুজো

আর কিছুদিন পরে হলেও অন্যান্য বছরের মতো এবছরও তেমন বুকিং

নেই। যে কয়েকটি বুকিং এসেছে তাও আবার ছোটখাটো প্রতিমার জন্য।

ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা।

নতুন জামা কাপড় পরে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখতে যাওয়া মানেই

সকলে দুর্গাপুজোকে বোঝেন। কিন্তু শিল্পনগরী হলদিয়ার মানুষের কাছে এই

রীতি যেন একটু ব্যতিক্রম। হলদিয়াবাসীর কাছে শ্রেষ্ঠ উৎসব বিশ্বকর্মা

পুজো।

আর তাই হলদিয়ার মানুষজন বিশ্বকর্মা পুজোতে নতুন জামা কাপড় পরে

ভিড় জমান। চলে আনন্দ হৈ-হুল্লোড়। কিন্তু এক বছর আগের সেই ছবি

কেমন যেন ফিকে হয়ে এসেছে। এবছর শিল্পনগরী হলদিয়াতে সেভাবে

বড়ো করে হচ্ছে না বিশ্বকর্মা পুজো। কোনও রকমে নামমাত্র নমঃ নমঃ

করেই শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

এখানকার শিল্প কারখানা কর্তৃপক্ষগুলি।

হলদিয়া সহ আশেপাশে প্রায় একশোর মত ছোট বড় কল কারখানা

রয়েছে। রয়েছে মাল ওঠানামার বন্দরও। যেগুলিতে অন্যান্য বছর

জাঁকজমক করে হতো বিশ্বকর্মা পুজো। এক-একটি পুজোর বাজেট থাকতো

৫- ১০ লাখ টাকা। কিন্তু সেই সমস্ত বাজেট চলতি বছরে গিয়ে

দাঁড়িয়েছে ৩০- ৫০ হাজারে। পুজোর প্রায় দু’মাস আগে থেকে শুরু

হয়ে যেত মন্ডপের প্রস্তুতি। শুরু হয়ে যেত মৃৎশিল্পী পাড়ায় প্রতিমা

বুকিংয়ের পর্ব। প্রতিমাতেও কে কাকে টেক্কা দিতে পারে চলত তার

প্রতিযোগিতা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকেই বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরি হয়ে

আসতো শিল্পাঞ্চল হলদিয়াতে। ফলে অন্যান্য বছর ঠিক এই সময়ে চরম

ব্যস্ততা লেগে থাকত জেলার মৃৎশিল্পী পাড়ায়। কিন্তু করোনার জেরে

চলতি বছরে সব কিছুই কেমন যেন উলটো পালটা হয়ে গিয়েছে।

আমপান ঝড়ে জেলার একাধিক মৃৎশিল্পীদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নষ্ট হয়ে গিয়েছে প্রতিমা তৈরির সামগ্রী। তার মধ্যে বাড়তি ক্ষতি পুজোর

মরসুমে প্রতিমার বুকিং না হওয়া।

অন্যান্য বছর থেকেই সময় এক এক জন প্রতিমা শিল্পীর কাছে প্রায়

একশর মত প্রতিমার অর্ডার চলে আসতো। এইসময় প্রতিমা মন্ডপে নিয়ে

যাওয়ার হিড়িকও শুরু হয়ে যেত। কিন্তু সেই চেনা ছন্দ আজ আর

নেই। যে ক’টি অর্ডার এসেছে তাও যৎ সামান্য মূল্যের। তাতেই এখন

মাথায় হাত মৃৎশিল্পীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here