কাঠামো থেকে সংগৃহীত কাঠ ব্যবহৃত হয় নবমীর যজ্ঞে! কোন বাড়ির পুজোর নিয়ম জানেন?

0
627

পল্লবী সান্যাল : দেবী দুর্গার কাঠামো তৈরির সময় কিছুটা কাঠ আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়। তারপর তা ব্যবহৃত হয় দুর্গা নবমীর যজ্ঞের সময়। সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এমনই রীতি পালিত হয়ে আসছে টাকির ঘোষ বাড়িতে। 

টাকিতে ইছামতী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত  ঘোষ বাড়ি। ঘোষেরা ছিল জমিদার পরিবার। ৩৫১ বছর আগে এই পুজো প্রতিষ্ঠা করেন জমিদার হরিনারায়ণ ঘোষ। করোনা আবহে যাবতীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে পুজো করতে প্রস্তুত ঘোষেরা। করোনা আবহে যেখানে বাড়ির পুজোগুলিতে অনেকেই দর্শণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও ঘোষেরা অবশ্য সে পথে হাঁটেননি। যারা টাকির ঘোষ বাড়ির পুজো দখতে যাবেন তাদের জন্য মূল প্রবশদ্বারে থাকছে স্যানিটাইজারর ব্যবস্থা। এছাড়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মাস্ক। প্রতি ক্ষণে বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্বও।

প্রতি বছর ঠাকুর দালানে দেবী দুর্গার কাঠামো পুজো করা হয়। শোনা যায়, কয়েক শতাব্দী প্রাচীন এই বাড়ির পুজোয় একবার গিয়েছিলেন নেতাজ সুভাষচন্দ্র বসুও। তাঁকে বাড়ির মহিলারা চন্দনের ফোটা, ফুল শঙ্খধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

পুরনো ঐতিহ্য, রীতি নীতি বজায় রেখে ঘোষেদের বাড়ির পুজো আজও বৈষ্ণব মতেই হয়ে আসছে। পুজোয় আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়ার রীতি এখনও চলছে।

বাড়ির বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও পুজোর ক’টা দিন সকলেই জড়ো হন টাকির বাড়িতে। দশমীতে নিয়ম নির্ঘণ্ট মেনে সূর্যাস্তের পর প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রথমে কুলিদের কাঁধে চেপে ঠাকুরকে ইছামতীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নৌকায় ইছামতী বক্ষে ঠাকুর ঘোরানো হয় নিরঞ্জনের আগে।

এই বাড়িতে রান্না ভোগ দেওয়ার নিয়ম নেই। মাকে কাঁচা খাবার খেতে দেওয়া হয়।একসময় পুজো উপলক্ষে জমিদারবাড়িতে নাটকের আসর বসত। কলকাতা থেকে নাটকের দল আসত। গ্রামের লোকেরা ভিড় করে নাটক দেখতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here