করোনা যুদ্ধে প্রয়াত হলেন তৃনমূল বিধায়ক

0
88

নিজস্ব প্রতিবেদন, ২৪ জুনঃ তাঁর চিকিৎসার জন্য ছ’জন চিকিৎসকের কোভিড টিম ছিল। কিন্তু সেই কোভিড টিমও বাঁচাতে পারল না তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান বিধায়ক তমোনাশ ঘোষকে। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন ৬০ ছুঁইছুঁই এই রাজনীতিবিদ। কিন্তু রক্তের শর্করার আধিক্য মৃত্যুকে আরও ত্বরান্বিত করে দিল। সময়ে সতর্কতা না নেওয়ার ফলে করোনার ছোবলে মৃত্যু হল ফলতার বিধায়কের। তমোনাশ ঘোষের মৃত্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ রাজ্যের রাজনৈতিক মহল শোক প্রকাশ করেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা মনে করছেন, গোড়াতেই যদি অসুস্থতাকে গুরুত্ব দিতেন তমোনাশবাবু তাহলে পরিণতি এত করুণ হত না। বুধবার সকাল আটটা নাগাদ ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কালীঘাটের বাসিন্দা তমোনাশ মাসখানেক আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে গত ২৩ মে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন ।

প্রথম থেকেই তমোনাশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। টানা ২৪ দিন ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। এরপর ফুসফুস কাজ করা কার্যত বন্ধ করে দেয়।  কৃত্রিম ভাবে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস চালানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। পূর্ণমাত্রা ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিয়ে রেখেও গত দুই সপ্তাহ ধরে তাঁর শারীরিক কোনও উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। ফুসফুসের পর কিডনি, লিভার একে একে বিভিন্ন অঙ্গ অকেজ হয়ে পড়ে বলে জানান চিকিত্সকরা। সোমবার থেকেই বেশ অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল হার্টবিট এবং পালস রেট। কোনভাবেই শরীরে রক্তচাপ বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার একেবারেই রক্তচাপ কমে যায়। সব মিলিয়ে অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে ওঠেন তৃণমূলের প্রবীন এই সদস্য। তাঁর অকাল প্রয়ানে শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় টুইটে লিখেছেন, “৩৫ বছর দলের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ছিলেন দল ও মানুষের প্রতি একনিষ্ঠ। তাঁর সমাজসেবায় অনেক অবদান রয়েছে।” এই ঘটনায় শোক প্রকাশ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও। কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর শোকবার্তায় জানান, তৃণমূল বিধায়ক তমোনাশ ঘোষের মৃত্যু তাঁকে শোকাহত করেছে। এভাবে চলে যাওয়াটা মানতে পারছেন না। কোরোনা সমস্ত মানবজাতির বিপদ। সকলকে সাবধানে চলার পরামর্শ দিল ওনার অকালে চলে যাওয়া এই মৃত্যু।
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here