মিত্র বাড়িতে মায়ের পুজো করেন মেয়েরাই!

0
1353

পল্লবী সান্যাল : বংশে ছেলে না থাকায় উত্তর কলকাতার মিত্র বাড়ির পুজো এগিয়ে নিয়ে চলেছেন  মেয়েরাই। ২০০ বছরেরও প্রাচীন মিত্র বাড়ির মা দুর্গা সজ্জিত হন ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানার যুগলবন্দিতে। মিত্র বাড়ির ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, পুজোর প্রবর্তন করেন নীলমণি মিত্রের ছেলে রাধাকৃষ্ণ মিত্র। এই নীলমণি মিত্রের নামেই রাস্তার নাম রাখা হয়েছে উত্তর কলকাতায়। বর্তমানে মিত্র বাড়ির সদস্য মানবেন্দ্র কৃষ্ণ মিত্রের কোনও পুত্র সন্তান না থাকায় তার তিন মেয়ের দ্বারাই পরিচালিত হয় এই পুজো।  

দুর্গা পুজো থেকে সন্ধি পুজো, দেবী দুর্গার পুজোয় পদ্মফুল অপরিহার্য। কিন্তু জানেন কি মিত্র বাড়ির দুর্গা পুজোয় ব্যবহৃত হয় না পদ্মফুল। ১০৮ টি পদ্মফুলের পরিবর্তে সন্ধি পুজোয় মায়ের চরণে দেওয়া হয় ১০৮ টি অপরাজিতা ফুল।রীতি অনুযায়ী প্রথম কুল ওঠার পর সেই কুল দিয়ে আচার তৈরি করা হয় দেবী ও তাঁর চার সন্তানের জন্য। এছড়াও নৈবেদ্যতে থাকে ৮ রকমের বড়ি। ভোগের পাশাপাশি মায়ের জন্য ৮ থেকে ১০ রকমের নাড়ু ও মিষ্টির আয়োজন করে থাকেন বাড়ির মহিলারা।

মিত্র বাড়ির দুর্গা পুজো বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুর্গা, লক্ষ্মী, স্বরস্বতীর টানা টানা চোখ। কার্তিক আর অসুরের মুখ আবার মানুষের আদলে হয়ে থাকে। প্রতি বছরই দুর্গার মূর্তি একই রকম মূর্তির ছাঁচে করে রাখা হয়। কাঠামো হয় একচালার।বর্তমানে প্রতিমা করছেন শিল্পী অসিত মুখোপাধ্যায়। এখানে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিন ধরে চলে কুমারী পুজো। দশমীর দিনে পান, মাছ খেয়ে বাড়ির মহিলারা মাকে বরণ করেন। অষ্টমীতে এক সময় পাঠা বলির চল থাকরলেও তা আজ বিলুপ্ত। কারণ হিসেবে জানা যায়, রাজকৃষ্ণ মিত্রের পায়ের কাছে একবার একটি ছাগল চলে আসে। সেই থেকে এখানে বলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দশমীর দিন রীতি মেনে সিঁদুর খেলায় মাতেন বাড়ির মেয়ে বউরা। প্রথা মেনে বাড়ির পুরুষরা আজও সাদা ধুতি পড়ে উড়নি গায়ে দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিতে যান।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here