করোনার অভিশাপে মহালয়া কি এবার তর্পণহীন?

0
200

পল্লবী সান্যাল : হাতে মাত্র আর কয়েকটা দিন। তারপরই অবসান ঘটবে পিতৃপক্ষের। শুভারম্ভ ঘটবে দেবীপক্ষের। মহালয়া মানেই বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজো শুরু। মহালয়ায় দিন শুরু হয় গঙ্গার ঘাটে তর্পণ দিয়ে। বিশ্বাস করা হয়, মহালয়ার দিনটিই তর্পণের জন্য আদর্শ। ওই দিন পুর্ব পুরুষদের আত্মা পৃথিবীর খুব কাছে বিরাজমান হয়। ফলে সেই সময় তর্পণ করলে তর্পণের উদ্দেশ্য সফল হয়।

তর্পণ শব্দের উৎপত্তি ‘ত্রুপ’ থেকে। যার অর্থ সন্তুষ্ট করা। মহালয়ায় পুর্ব পুরুষদের আত্মার উদ্দেশ্যে জল নিবেদন করে শান্তি কামনা করার নামই তর্পণ। শাস্ত্র বলে, তর্পণের সময় ঈশ্বর সহ পুর্ব পুরুষদের কাছে সুখ, শান্তি প্রার্থনা করা হয়। তবে এবছরটা ব্যাতিক্রমী।

বঙ্গে করোনা আগমনেরপর থেকেই ফিকে উৎসবের মেজাজ। জমায়েতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকায় শুধুমাত্র নিয়মটুকু রক্ষা করেই সারা হচ্ছে অনুষ্ঠান। অন্যান্য উৎসবের মতো তাই দুর্গা পুজোর ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে বেশ কিছু নিষধাজ্ঞা। করোনার অভিশাপে চলতি বছরে মহালয়ায় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের গঙ্গার তিনটি ঘাট (চাঁদনি ঘাট, সীমার ঘাট ও পঞ্চবটী ঘাট)-এ তর্পণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।  পাশাপাশি ওই দিন বন্ধ থাকবে বেলুড় মঠ। ফলে সেখানকার ঘাটেও মিলবে না তর্পণের সুযোগ। তবে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুণ্যার্থীদের সমাগমের দিকটিও নজরে রয়েছে। মহালয়ায় মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার জন্য ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষকে পুলিশের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছিল পুলিশের তরফে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহালয়ার সকালে মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতি বছরই মহালয়ার পুণ্য তিথিতে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে। পাশাপাশি জনজোয়ার প্লাবিত হয় বেলুড় মঠেও। এবছর প্রাণঘাতী ভাইরাসের দাপটে এসব কিছু হওয়ার নয়। এখন প্রশ্ন হল তাহলে কি বহু প্রাচীন তর্পণ রীতিতেও ইতি টানলো করোনা?  তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, কলকাতার বাবুঘাটে দূর্গদিন ধরে চলে আসা তর্পণ রীতিতে কোনও ছেদ না পড়লেও জারি থাকবে বিধি নিষেধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here