মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কিত কয়েকটি তথ্য যা আপনার অজানা

0
635

পল্লবী সান্যাল:  ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর অবদান সম্পর্কে অবহিত নন এমন ভারতীয়র সংখ্যা হাতে গোনা। আট থেকে আশি আমরা সকলেই বড় হয়েছি ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে। তবে গান্ধীজি সম্পর্কিত এমন অনেক তথ্যই রয়েছে যা হয়তো সবাই জানেন না। গান্ধি জয়ন্তী উপলক্ষ্যে পাঠকদের উদ্দেশ্যে রইল সেই সব অজানা তথ্য। দেখে নিন এক নজরে –

  • লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন গান্ধীজি। এরপর অ্যাটর্নি হন। তবে প্রথমবার আদালতে বক্তব্য রাখতে উঠে নার্ভাস হয়ে পড়েন। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে পড়েন ও মামলা হেরে যান।
  • গান্ধীজি কখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা না রাখলেও সেদেশে তাঁর ভক্তের সংখ্যা  নেহাতই কম নয়। তাঁর অন্যতম বড় অনুরাগী ছিলেন হেনরি ফোর্ড। এক সাংবাদিকের হাত দিয়ে তাঁকে একটি সুতা কাটার চরকা উপহার দেন গান্ধি।
  • ৪টি মহাদেশের ১২টি দেশের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
  • জীবনের কিছুটা সময় তিনি কাটিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাতে। সেই সময় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে ফুটবলের প্রসারে ব্রতী হন গান্ধীজি। তিনি ডারবান,  প্রিটোরিয়া ও জোহানেসবার্গে ফুটবল ক্লাব খুলতে উদ্যোগী হন। তিনটিরই নাম ছিল, ‘প্যাসিভ রেজিস্টার্স সকার ক্লাব’।
  • ভারতকে ইংরেজদের কবল থেকে উদ্ধার করেছিলেন যিনি সেই গান্ধীজির নামেই ডাকটিকিট চালু করে ব্রিটেন।
  • একসময় সেনাদলে নাম লিখিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তবে যুদ্ধের বীভৎসতা দেখে তিনি এর ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে অহিংসার প্রতি আরও বেশি করে আকৃষ্ট হন।
  • গান্ধীজির ইংরেজি উচ্চারণের মধ্যে আইরিশ প্রভাব ছিল। কারণ তাঁর প্রথম শিক্ষক ছিলেন একজন আইরিশ।
  • দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রথম বক্তৃতার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না গান্ধীজি। ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখতে কলকাতায় ছিলেন তিনি।
  • মহাত্মা গান্ধী প্রতিদিন ১৮ কিলোমিটার পথ হাঁটতেন। সেই হিসাবে পৃথিবী পরিক্রমায় বের হলে তিনি দুইবার পৃথিবী চষে ফেলতে পারতেন।
  • মহাত্মা গান্ধীর নামে ছোট রাস্তাগুলি বাদে মোট ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে মহাত্মার নামে মোট ৪৮টি রাস্তা রয়েছে।
  • মহাত্মা গান্ধীর ভক্ত ছিলেন মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপলের স্রষ্টা স্টিভ জবস। তাঁর দেখাদেখি জবসও গোলাকার ফ্রেমের চশমা পরতেন। পরে সেটাই হয়ে উঠেছিল জবসের স্টাইল স্টেটমেন্ট।
  • মৃত্যুর পর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ৫ বার মনোনীত হন মহাত্মা গান্ধী। কিন্তু সে সময় নোবেল কমিটি বারবারই দুঃখ প্রকাশ করে, কারণ সে সময়ে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার দেওয়ার রীতি ছিল না।
  • গান্ধীজির ব্যবহৃত বহু সামগ্রী, এমনকি যে বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় তিনি খুন হন, সেটিও মাদুরাইয়ের গান্ধী মিউজিয়ামে সংরক্ষিত করে রাখা রয়েছে।
  • একজোড়া বাঁধানো দাঁত ছিল গান্ধিজীর। প্রয়োজনের সময় ছাড়া সেটিকে কাপড়ে মুড়ে কাছে রাখতেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here