করোনা আবহে দুর্গা পুজো নিয়ে কি ভাবছেন কলকাতার সঙ্গীত শিল্পীরা?

0
627

নিজস্ব প্রতিনিধি(দেবস্মিতা ঘোষ) ২৩.১০.২০২০

আজ থেকে নয় বহুদিন ধরেই পুজোর গান একটা আলাদা উত্তেজনা আনে।সেই উন্মাদনার রকম ফের হয়েছে তবে উচ্ছাস তা এখনও আছে।তবে এ বছর পুজোতে বিষাদের সুর।তা নিয়ে কি প্রতিক্রিয়া কলকাতার সঙ্গীত শিল্পীদের আমরা দেখে নেব।

জয়তী চক্রবর্তী-

“অন্য বছর পূজোয় আমাদের অন্যরকম ব্যস্ততা থাকে। আমরা দেশের বাইরেই থাকি বেশিরভাগ।তবে এ বছরে পুজোয় সেটা সম্ভব হচ্ছেনা ।কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যমে বহু কাজ হচ্ছে ,তাই ব্যস্ততা একদম নেই সেটা বলা ভুল হবে ।তবে হ্যাঁ মঞ্চে গিয়ে যে অনুষ্ঠানটা এবার সম্ভব হচ্ছে না। শিল্পী বন্ধুদের, যন্ত্রশিল্পী বন্ধুদের যত না অসুবিধা হচ্ছে ,তার থেকে অনেক বেশি বিপদে পড়েছে আলোকসজ্জা শিল্পী ও শব্দ প্রক্ষেপণে যেসব শিল্পী বন্ধুরা সাহায্য করে তারা। প্রায় গত ৮-৯মাস ধরে কর্মহীন জীবন কাটাচ্ছে ।এটা বড় বেদনাদায়ক। যখন বাকি সমস্ত কাজ ঠিকঠাক করে চলছে তবে শিল্পীদের কাজ চলবে না কেন? অন্তত অর্ধপূর্ণ রেখে মঞ্চ চালু হলে তবে সমস্ত রকমের শিল্পীদের অনেক সাহায্য হয়।সেটার দিকে এবার আমাদের নজর দেয়া উছিত।কিছুই যখন আটকাচ্ছে না,সবই যখন স্বাভাবিক চলছে তবে এটাও ব্যাতিক্রম করা ঠিক নয়।”

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়-

“এই মহামারীতে পুজো নিয়ে কি বলব বুঝতে পারছি না। তবে অন্য বছর কলকাতায় তো থাকা হয়না ।বিদেশে বা ভারতের অন্য জায়গায় অনুষ্ঠানের সূত্রে যেতে হয় ।এবছর সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ডিজিটালি বহু কাজ হচ্ছে ।কিন্তু সে কাজ করে মন ভরছে না। কোনরকমে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো হচ্ছে ।মঞ্চের উন্মাদনা সেটা উপভোগ করতে পারছি না । সরকারের পক্ষ থেকে কোন রকম সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না শিল্পীদের জন্য ।বিদেশে যে সমস্ত শিল্পীরা রয়েছেন তারা প্রত্যেকেই সরকারের কাছ থেকে সাহায্য পাচ্ছেন। কিন্তু এদেশে সেটা হচ্ছে না। আমি আমার শিল্পী বন্ধুদের বা যন্ত্রশিল্পী বন্ধুদের সাহায্য করার চেষ্টা করছি যেহেতু আমি ভারতীয় জনতা পার্টির সাংস্কৃতিক বিভাগে আছি। কিন্তু সব শিল্পীরা তো তাতে উপকৃত হচ্ছে না। আমি করতেও পারছিনা, সেটা সম্ভব নয়। তবে সব কিছুরই ভালো দিক এবং মন্দ দিক দুটোই আছে ।মন্দ দিকটা নিয়ে ভাবলে আমরা এগোতে পারব না, কারণ সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে চলতে হবে। তাই এই দুঃসময়ে একটাই কথা বলব অন্তত আমি বহু বছর পরে এত মাস টানা এক জায়গায় থাকার সুযোগ পেয়েছি ।সেই সময়টাকে আমি নিজেকে গ্রুমিং ,নিজের পড়াশুনো, নিজের শিল্পচর্চা এই সবকিছু নিয়ে থাকতে চেয়েছি এবং নিজের জ্ঞানকে উর্বর করে তোলার চেষ্টা করেছি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here