চক্ষুদানের মাধ্যমে পুজো শুরু মহালয়ায়

0
247

পল্লবী সান্যাল : গঙ্গার ঘাটে তর্পণ ও মহিষাসুরমর্দ্দিনী ছাড়া মহালয়ার আরও একটি বিশেষত্ব হল মা দুর্গার চক্ষুদানের রীতি। রামায়ণের কাহিনী থেকে জানা যায়, রাবণ বসন্তকালে দুর্গা পুজো করায় সেই পুজোর নামকরণ করা হয় বাসন্তী পুজো। আবার রাম রাবণের যুদ্ধের আগে শরতকালে দুর্গা পুজো করেন শ্রীরামচন্দ্র। সেই থেকে অকালবোধনের প্রচলন ঘটেছে।

পাড়ার ক্লাবগুলি দুর্গা পুজোর প্রচলন ঘটানোর আগে দুর্গা পুজো হতো রাজবাড়ি কিংবা বনেদি বাড়িতে। সেই সময় প্রতিমার কাঠামো গড়ার কাজ শুরু হতো বৈশাখে। কাঠামো সম্পূর্ণ হলে জন্মাষ্টমীর দিন তাকে পুজো করা হতো। দুর্গা পুজোর রীতি অনুসারে, সপ্তমীতে নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে পুজোস্থলে প্রতিষ্ঠা করার পর হতো দেবীর চক্ষুদান। এদিকে দেবী পক্ষের সূচনা ঘটে মহালয়ায়।ফলে রাজ বাড়িতে মহালয়ার দিনটিকেই শুভ বলে মেনে নিয়ে মা দুর্গার চক্ষু আঁকা হতো। তবে দুর্গা সপ্তমীতেই মায়ের ত্রিনয়ণ আঁকার নিয়ম।

শাস্ত্র মতে, সপ্তমীর সকালে শুদ্ধ বস্ত্রে ডান হাতে কুশের অগ্রভাগ নিয়ে দেবী দুর্গাকে কাজল পরানোর রীতি রয়েছে। প্রথমে কাজল পরানো হয় দেবী দুর্গার ঊর্ধ্বনয়নে। এরপর বাঁ চোখে। কাজল পরানো শেষ হয় ডান চোখ দিয়ে।চক্ষুদানের পরই প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পর্দায় ঢাকা ঘেরাটোপে পূজারি এবং তান্ত্রিকদের উপস্থিতিতে লেলিহান মুদ্রায় মোট ১০৮ বার বীজমন্ত্র জপ করা হয়। এই রীতির ফলেই মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী রূপে প্রতিষ্ঠিত হন দেবী। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী এর অর্থ, মাটির প্রতিমা থেকে রক্তমাংসের শরীরে পরিণত হলেন দেবী। প্রাণ প্রতিষ্ঠা শুধু শুধু দেবী দুর্গারই করা হয় না, প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় তাঁর চার ছেলেমেয়ে ও তাঁদের বাহনদেরও। এমনকি বাদ যায় না অসুরেরও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here