মাটির মণ্ডপ থেকে সিমেন্টের মন্দির! সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজোর একাল সেকাল

0
438

পল্লবী সান্যাল : কলকাতার আদি দুর্গা পুজোর ইতিহাসে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শুরুটা হয়েছিল ১৬১০ সালে। দেখতে দেখতে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজোর বয়স পেরিয়ে গেল ৪০০ বছর। সেই সঙ্গে মাটি আর গোলপাতার তৈরি মণ্ডপও আজ বদলে গিয়েছে সিমেন্টের মন্দিরে।

ইতিহাস বলে, ৯৭৫ সালে বাংলার শাসন ভার ছিল আদিশূরের কাঁধে। বাংলায় হিন্দু ধর্মের ভিত শক্ত করতে কনৌজ থেকে ৫ জন ব্রাক্ষ্মণকে নিয় এসেছিলেন তিনি। তাঁদের মধ্যে বেদগর্ভ নামের এক ব্রাক্ষ্মণ ছিলেন। যাকে সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের আদিপুরুষ বলে মনে করা হয়।

জানা যায়, ১৬১০ সালে আটচালার দুর্গা পুজো দিয়ে পথ চলা শুরু সাবর্ণ রয়চৌধুরীদের বাড়ির পুজোর। সেকালে একালের মতো কংক্রিটের মজবুত বিল্ডিং ছিল না, তিলোত্তমা মহনগরী তখন জঙ্গল ও জলা জায়গায় ভরাট ছিল। ক্রমে আধুনিক হয়েছে সমাজ। ঘটেছে পরিবর্তন। কালের নিয়মে মাটি আর গোলপাতার তৈরি আটতালার মণ্ডপ আজ পরিণত হয়েছে সিমেন্টের মন্দিরে। যার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। এই মন্দিরের চারপাশে কয়েকটি থাম রয়েছে। যেগুলি সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজোর ইতিহাসকে আজও মেলে ধরে দর্শনার্থীদের কাছে।

বংশ পরম্পরায় সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজোর ১০ থেকে ১১টি ভাগে বিভক্ত হয়েছে পরবর্তীকালে। এর মধ্যে বরিশায় ৬ টি পুজো হয় ‘আটচালাবাড়ি’, ‘বড়বাড়ি’, ‘মেজবাড়ি’, ‘মাঝের বাড়ি’, ‘বেনাকি বাড়ি’ এবং ‘কালীকিঙ্করভবন’। এছাড়াও পুজো হয় ‘নিমতা’ এবং ‘বিরাটি বাড়ি’তে। পুজোয় খরচ বেড়ে দাঁড়য়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। সনাতনি রীতি মেনে শাস্ত্রীয় নিয়মে পুজো হয় এখানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here