মহালয়ার প্রাক্কালে জেনে নিন পিতৃ ও মাতৃ পক্ষের তাৎপর্য

0
79

পল্লবী সান্যাল : ১২ মাসে এক বছর। আর এই ১২ মাসেই রয়েছে বাঙালির ১৩ পার্বণ। বছরের ১২ মাসে মোট ২৪ টি পক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে পিতৃপক্ষ ও দেবীপক্ষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের তিথি হল মহালয়া। এই কৃষ্ণ পক্ষই হল পিতৃ পক্ষ।  যার অপর নাম  ষোলা শ্রাদ্ধ, কানাগাত, জিতিয়া, মহালয়া পক্ষ ও অপরপক্ষ। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যেহেতু পিতৃপক্ষে প্রেতকর্ম, তর্পণের মতো মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হওয়ায় এই পক্ষ শুভকাজের জন্য প্রশস্ত নয়। দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে এই পক্ষের সূচনা হয়। শেষ হয় মহালয়ার দিনে। উত্তর ভারত ও নেপালে আবার ভাদ্রের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণ পক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয়। পুরাণ মতে, স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত পিতৃলোক। বাপ – ঠাকুরদা সহ তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। এখানকার শাসক মৃত্যুদেবতা যম স্বয়ং। তিনিই সদ্য মৃত ব্যক্তির আত্মা, মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান।

মহাভারতে বর্নিত রয়েছে, কর্ণের মৃত্যুর পর তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করলে তাঁকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। কর্ণ স্বর্গাধিপতি ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণই দান করেছেন, পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনও দিন খাদ্য প্রদান করেননি। তাই স্বর্গে তাকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। এমন সময়ে কর্ণ বলেন, তিনি তাঁর পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, এই কারণে কর্ণকে ১৬ দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই থেকেই পিতৃ পক্ষের সূচনা হয়।

পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকে দেবী বন্দনা শুরু হয়। শুরু হয় দেবী পক্ষ। আর এই দুই পক্ষের সন্ধিক্ষণই হল মহালয়া। যেদিন থেকে দেবীর আগমনের দিন গোনা শুরু হয়। মর্ত্যে দেবীর আগমনের পরই সাড়ম্বরে পালিত হয় দুর্গাপুজো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here