পাঁচ দিন নয়, শীল লেনের পুজো প্রায় দু মাসের!

0
379

পল্লবী সান্যাল : যারা বলেন বাঙালিদের দুরগা পুজো পাঁচ দিনের তাঁরা শুনলে অবাক হবেন যে কলকাতার বুকে এমনও পুজো হয় যেখানে মা দুর্গা পূজিতা হন টানা ৪৪ দিন। নিশ্চয়ই ভাবছেন, শহরের কোথায় একমাস ধরে পুজো হয়? শীল লেনের দাস বাড়িতে বছরের পর বছর এক মাস ধরেই সপরিবারে পুজো পেয়ে আসছেন দেবী দুর্গা। প্রতি বছর কৃষ্ণপক্ষের নবমী থেকে শুক্লপক্ষের নবমী পর্যন্ত শীল লেনের বাড়িতে চলে মা দুর্গার আরাধনা। বেশ কিছু জায়গায় মূলত স্মৃতিকার রঘুনন্দনের তত্ত্ব মেনে পুজো হয়। কিন্তু এদের পুজো স্মৃতিকার শূলপাণির মতে।

হিন্দু শাস্ত্র মতে, ষষ্ঠীতে বোধন দিয়ে শুরু হয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্সবের। কিন্তু বছর বারোর এই বাড়ির পুজোয় মা দুর্গার বোধন হয় কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথির আদ্যা নক্ষত্র অনুযায়ী। দাস বাড়ির পুজোর প্রতিষ্ঠাতা দুই ভাই বোন প্রসেনজিত ও মৌমিতা। পুজোর দিনগুলিতে পুরোহিতের ভূমিকায় থাকেন বাড়ির একমাত্র ছেলে, পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার প্রসেনজিৎ দাস। বিয়ের আগে পূজারী হিসেবে তাঁর সঙ্গে যোগ দিতেন  পেশায় চিকিৎসক দিদি মৌমিতাও।

দাস বাড়ির দুর্গা পুজোর বৈশিষ্ট্য হল ঘটের পরিবর্ত পট পুজোর রীতি রয়েছে।  মায়ের বোধনের নির্দিষ্ট তিথি থেকে মহালয়া পর্যন্ত বাড়িতে নিত্যপুজো চলে। তবে মহালয়ার পরের দিন, অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতিদিন বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দুর্গার আরাধনা করা হয়।  ষষ্ঠী থেকে শুরু হয় মূল দুর্গাপুজো। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী এই তিন দিন মহাপুজোর আয়োজন করে দাস বাড়ির সদস্যরা। অষ্টমীর শেষ রাতে শাস্ত্র অনুযায়ী অর্ধরাত্রি পুজোর ব্যবস্থাও থাকে। এই অর্ধরাত্রির পুজো দাস বাড়ির দুর্গা আরাধনার অন্যতম আকর্ষণ বলে পরিচিত। বিজয়া দশমীতে মায়ের বিদায়ের ক্ষেত্রেও দাস পরিবারের পুজোয় বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। ওইদিন তিনবার আরতি করা হয়। দেব-দেবীর আরতি, অপরাজিতা আরতি এবং গঙ্গাবক্ষে আরতি শেষ করে মাকে বিদায় জানায় দাস পরিবার। এখানেই শেষ নয়, দশমীর দিন বিশেষ ভোগ দেওয়া হয় মাকে। পান্তা ভাত এবং কচুর লতি। তবে রান্নাটা হয় মহানবমীর রাতে। দশমীর দিন যেহেতু মায়ের বিদায়ের কারণে পরিবারের সদস্যদের মন ভারাক্রান্ত থাকে, তাই সেদিন হেঁসলে আগুন জ্বলে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here