অন্ন ভোগের বদলে কচুরী! ব্যতিক্রমী রীতি উত্তর কলকাতার এই বনেদি বাড়িতে

0
836

পল্লবী সান্যাল :  মা দুর্গার ভোগ মানেই ফল মিষ্টি সহ খিঁচুড়ি, তরকারি, পোলাও, আলুরদম, চাটনি, পায়েস। পাড়ার পুজো হোক কিংবা বাড়ির, ভোগের থালায় এমনই সব খাবার থাকে। তবে শুধু মা দুর্গা নয়, বাকি দেব দেবীদের ক্ষেত্রেও মোটামুটি একই ভোগের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ব্যতিক্রমী হিসেবে কখনও ভোগের থালায় কচুরি, নিমকি দেখেছেন! উত্তর কলকাতার দত্ত বাড়িতে এমনই ভোগ দেওয়া হয়ে থাকে। রীতি অনুযায়ী, মা দুর্গাকে অন্ন ভোগ দেওয়া হয় না। পরিবর্তে সাত রকমের শুকনো ভোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কচুরি, নিমকি ছাড়াও থাকে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি, নাড়ু, গজা। পুজোর দিনগুলিতে দেবীকে এই সাত রকমের ভোগ দেওয়া হয়।

উত্তর কলকাতার যে সকল বনেদি বাড়িতে বহু বছর ধরে দুর্গা পুজো হয়ে আসছে তার মধ্যে বলরাম দে স্ট্রিটে অবস্থিত দত্ত বাড়ি একটি। ২০২০-তে এবাড়ির পুজোর ১৩৯তম বর্ষ।

দত্ত বাড়িতে যেতে হলে গিরীশ পার্ক মেট্রো স্টেশন থেকে হাঁটত হবে মিনিট পাঁচেক। লরাম দে স্ট্রিটে অবস্থিত শতাধিক প্রাচীন দত্ত বাড়ি। হাটখোলা দত্ত বাড়ির ছেলে শ্যামল ধন দত্ত এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। ১৮৮২-তে বলরাম দে সট্রিটে বাড়ি কিনে বসবাস শুরু করেন। পেশায় হাইকোর্টের আইনজীবী শ্যামলবাবুর ছোট মেয়ে রাজলক্ষ্মীর পুত্র সন্তান হওয়ায় সে বছরই বাড়ির দালানে শুরু হয় দুর্গা পুজো।

দত্ত বাড়ির প্রতিমার সিংহের ঘোটক রূপ দেখা যায়। এবাড়ির পুজোর চালচিত্র মঠচৌরি আদলের। দেবীর শাড়ি বাড়িতেই তুলিতে আঁকা হয়। মা দুর্গা ও তাঁর চার সন্তানের হাতের অস্ত্রাদি সব রুপোর তৈরি। গয়নাগুলি সোনার। দুর্গা পুজোর সময় কুমারী পুজোর রেওয়াজ রয়েছে এই বাড়িতে। দত্ত বাড়ির পুজোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল কুমারীর পাশাপাশি মা দুর্গাকে ত্ন দিন ধরে সধবা রূপেও পুজো করা হয়ে থাকে। বাড়ির পরিবারের কাছে দেবী মেয়ে। সেকারণে মা দুর্গাকে কুমারী রূপে পুজোর রীতি। সেই সঙ্গে মা দুর্গা যেহেতু সধবা সেকারণে তাঁকে সধবা রূপেও পুজো করা হয়। অন্য বাড়ির পুজোয় নবমীর দিনে সধবা পুজো হয়। দশমীতে কাঁধে করে বিসর্জনের রীতি রয়েছে। সেই সঙ্গে পরম্পরা মেনে দশমীতে এই বাড়িতে দরিদ্র নারায়ণ সেবার নিয়ম চলেছে আসছে। ঐ দিন খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।




LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here