ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে দুর্গা পুজোয় সামিল মুসলিমরা!

0
1106

পল্লবী সান্যাল : ভারতবর্ষকে বলা হয় ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আমরা যদি আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকাই তাহলেও ধরা পরবে সহাবস্থানের চিত্র। নানা জাতি, নানা ধর্মের মানুষের বাস এই রাজ্যে। সকল ধর্মের আচার অনুষ্ঠান মিলে মিশে উদ্ভূত হয়ছে মিশ্র এক সংস্কৃতির। না হলে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজোয় সামিল হয় মুসলিমরা? হুগলিতে পুজোর সময় ফ্রেমবন্দি হয় এমনই এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র।

কলকাতা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে শ্রীরামপুরের চণ্ডীতলায় বেগমপুর টাউনে ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গা পুজো করে আসছে ঘোষ পরিবার। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা অভিজাত জমিদারি প্রথা থেকে দূরে ছিলেন। কয়েকটি গোঁড়া বিভাগের প্রতিবাদ সত্ত্বেও, অলোক ঘোষ এবং তাঁর পূর্বসূরীরা দুর্গা পুজোয় মুসলিমদেরও সামিল করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রস্তুতি থেকে শুরু করে তাই পুজোর পাঁচটা দিন তাদের কাটে মিলে মিশে। এর নেপথ্যের কাহিনী জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ৮ বছর আগে।

প্রতিমা নিরঞ্জনের সময়  ২০ ফুট উঁচু দুর্গা প্রতিমাকে ট্রলি করে গঙ্গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য লোকবলের দরকার। বছর আটেক আগে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে সেই কাজটি করেছিলেন কয়েকজন মুসলিম। এরপরই ঘোষেদের পুজোয় মুসলিম পরিবারগুলির অন্তর্ভুক্তিকরণ ঘটে।

 এক সময় কালী ঠাকুরের কয়েকটি প্রতিমা বহন করেছ্লেন এক মুলসিম ব্যক্তি। ফলে সরু গলির মধ্যে দিয়ে কীভাবে প্রতিমা নিয়ে যেতে হয় তা ওনার জানা ছিল। পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মা দুর্গার উঁচু ও ভারী প্রতিমাটিকেও তিনি বহন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রথমবার একজন মুসলিম ব্যক্তি মা দুর্গাকে বহন করছেন দেখে কম কথা শুনতে হয়নি ঘোষেদের। তীব্র প্রতিবাদও  হয়েছে ঘটনার। কিন্তু তা সত্ত্বেও ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে নিজেদের সিদ্ধান্ত অনড় ছিলেন বাড়ির সদস্যরা। সেই থেকে দশমীর সিঁদুর খেলাতে অংশ নেন স্থানীয় মুসলিম মহিলারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here