৮৮ তে পদাপর্ণ আকাশবাণীর মহিষাসুরমর্দ্দিনীর

0
97

পল্লবী সান্যাল : বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে মহালয়ার ভোরে দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের কাহিনী অবলম্বনে মহিষাসুর মর্দ্দিনী সম্প্রচার করে আসছে আকাশবাণী। রেডিওতেই সেই কাহিনী শোনা প্রথমে। মনে পড়ে, মহালয়ার ভোরে চোখে ঘুম থাকলেও কানে বাজত সেই অনুষ্ঠান। দেখতে দেখতে ৮৮ টি বছর অতিক্রান্ত। আজও একইভাবে মহালয়ার ভোরে মহিষাসুরমর্দ্দিনী সম্প্রচারিত হয়ে আসছে আকাশবাণীতে। যুগ বদলালেও এতটুকুও বদলায়নি সেই অনুষ্ঠানের স্বাদ। দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠানে ফুটে ওঠে শ্রীশ্রীচণ্ডী বা দুর্গা সপ্তশতী থেকে মা চণ্ডীর স্তোত্র তথা চণ্ডীপাঠ সহ বাংলা ভক্তিগীতি, ধ্রুপদী সঙ্গীত ও পৌরাণিক কাহিনীর নাট্যরূপ। যাকে বলে কমপ্লিট প্যাকেজ।  প্রথম কয়েকবছর শ্রোতাদের মহিষাসুরমর্দ্দিনীর সরাসরি সম্প্রচার শোনার সৌভাগ্য হলেও ১৯৬৬ সাল থেকে সম্প্রচার শুরু হয় রেকর্ডেড মহিষাসুরমর্দ্দিনীর। সেই সময় যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল অনুষ্ঠানটি এখনও বজায় রয়েছ সেই জনপ্রিয়তা। জোনারেশনের পর জেনারেশন বদলালেও মহালয়ার ভোরে বাঙালির ঘুম ভাঙে সেই পঙ্কজকুমার মল্লিক, বাণীকুমার এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠস্বরে।

মহিষাসুরমর্দ্দিনী নামক অনুষ্ঠানটির একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯৩২ – এর চৈত্র মাসে বাসন্তী ও অন্নপূর্ণা পুজোর সন্ধিক্ষণে একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হতো যার নাম বসন্তেশ্বরী। মার্কণ্ডেয় চণ্ডী ভিত্তিক বাণীকুমার রচিত একটি বেতার লিপিলিখনের ওপর হতো  অনুষ্ঠানটি।বসন্তেশ্বরী শীর্ষক অনুষ্ঠানের অনুকরণেই কিছু পরিমার্জনের মাধ্যমে সেই বছরই দুর্গাষষ্ঠীর দিন অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন রাইচাঁদ বড়াল।  চণ্ডীপাঠ করেন বাণীকুমার নিজেই। এবং নাট্যকথা সূত্র এবং গীতাংশ গ্রহণে ছিলেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরবর্তীকালে সেই অনুষ্ঠানে নতুন স্তবস্তূতি, দেবীসূক্তি, নতুন গান ও পুরনো গানের সুরের পরিবর্তন ঘটিয়ে তা সম্প্রচারিত হয়। এরপর ১৯৩৬ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানটি মহিষাসুর বধ, শারদ বন্দনা নামে সম্প্রচারিত হয়। যার সঙ্গীত পরিচালনা করেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক এবং শ্লোকপাঠ ও গ্রন্থনা করেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। এরপর ১৯৩৭ সালে এই অনুষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মহিষাসুরমর্দ্দিনী। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হত। অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র স্নান করে শুভ্র পোশাকে এসে শ্লোক পাঠ করতেন। বর্তমানে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের রেকর্ডটিই মহালয়ার দিন ভোর চারটের সময় সম্প্রচারিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here