স্বাধীনতার ৭৪তম বর্ষেও স্মরণে গান্ধীজি!

0
92

পল্লবী সান্যাল : ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যাঁরা দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছেন তাঁদের মধ্যে মহাত্মা গান্ধী অন্যতম। যে কারণে তাঁর মৃত্যুর ৭০ বছর পরেও তাঁকে মনে রেখেছে দেশবাসী। লড়াকু এই স্বাধীনতা সংগ্রামীর স্মরণে আজও দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হয় গান্ধী জয়ন্তী।


১৮৬৯ খৃষ্টাব্দের ২ রা অক্টোবর গুজরাতের পর বন্দর এলাকায় হিন্দু মোধ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী। আসল নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাঁর বাবা ছিলেন উত্তম চাঁদ গান্ধী, মা পুতলি বাই। পারিবারিক রোজগার বলতে ছিল মুদির ব্যবসা। যদিও গান্ধীজির ঠাকুরদা ছিলেন এক দেশীয় রাজ্যের দেওয়ান। তাঁর বাবা ছিলেন পোর বন্দরের দেওয়ান। ১৮ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে প্রথম বিলেত যাওয়া গান্ধিীজির। তবে তারও আগে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ে করেছিলেন বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়ে কস্তুরবা মাখাঞ্জীকে। চার পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তাঁরা। পড়াশোনার দিক থেকে মহাত্মা গান্ধী মাঝারি মানের ছাত্র ছিলেন। কোনও রকমে গুজরাটের ভবনগরের সামালদাস কলেজ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করেন। এরপর সেই বাবা-মায়ের ইচ্ছেতই আইন নিয়ে এগোতে হয় তাঁকে। আইন নিয়ে পড়াশোনার সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থকে জানার আগ্রহও ছিল তাঁর। ব্যারিস্টারি পাশ করে দেশে ফিরে প্রথমে মুম্বাই হাইকোর্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৮৯৩-তে দাদা আব্দুল্লা এন্ড সন্সের আইনজীবী হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটালে যেতে হয়েছিল।সেখানেও ছিল ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসন। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁকে নাড়িয়ে বর্ণবিদ্বেষ। তিনি নিজেও দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের ও ভারতীয়দের প্রতি সাধারণভাবে প্রচলিত বৈষম্যের শিকার হন।


শ্বেতাঙ্গ ইংরেজরা আসলে ভারতীয় ও আফ্রিকানদের মানুষ বলেই গণ্য করতো না। চোখের সামনে দিনের পর দিন তাঁদের ওপর নির্মম অত্যাচার চলতে দেখে জেগে ওঠে গান্ধিজীর প্রতিবাদী সত্ত্বা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ইংরেজদের এই অত্যাচার ও অপমানের বিরুদ্ধে দলবদ্ধ প্রতিবাদের একান্ত প্রয়োজন। সেই তাগিদ থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল হয়ে উঠেছিল মহাত্মা গান্ধির রাজনৈতিক জীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্র। তাঁর আন্দোলন ছিল অহিংস আন্দোলন। উক্ত আন্দোলনকে তিনি নাম দিয়েছিলেন সত্যাগ্রহ। গান্ধিজী প্রহৃত ও কারাবন্দি হলেও স্থানীয় সরকার ভারতীয়দের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল একসময়। অবসান ঘটেছিল ইংরেজ শাসনের। অহিংসার অস্ত্র বলে সাফল্য অর্জন করেন গান্ধীজি


দীর্ঘ ২১ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটিয়ে ১৯১৫ তে দশে ফিরে আসেন গান্ধিজী। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি য়েভবে ভারতীয়দের পড়ে পড়ে মার খেতে দেখেছিলেন তাতে ভারতের জন্য স্বাধীনতা যে কতটা প্রয়োজন তার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। আর তখন থেকেই ভারতের বিপুল সংখ্যক নীরক্ষর সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই অহিংসার অস্ত্র দিয়ে ইংরেজ সাম্রাজ্যের পতন ঘটাবেন বলে মনস্থির করেন। এরপর ১৯২২ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। যার মাধ্যমে স্বদেশী আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতবাসীকে স্বদেশী ভাবনায়ও উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন গান্ধীজি।সমগ্র দেশ জুড়ে খাদি ও চরকা কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন তিনি। তিনি বুঝতে পারেন ভারতের অতি সাধারণ নিরস্ত্র মানুষকে সশস্ত্র আন্দোলনের পথে চালিত করা ঠিক হবে না। তাই অহিংসার পথকেই বেছে নিয়েছিলেন। সকল য়োদ্ধার সঙ্গে পায়ে হেঁটেই যোগাযোগ রাখতেন জাতির জনক।

১৯৩০ সালে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন গান্ধিজী। তাঁর স্মরণীয় এক পদক্ষেপ হল ডান্ডি অভিযান। এর বেশকিছু দিন পর ১৯১৮ তে বিশ্ব জুড়ে শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ। ১৯৪২ সালে ৯ ই আগস্ট গান্ধিজী সমস্ত দেশবাসীর কাছে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আনেন। পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে ঘোষণা করেন ভারত ছাড়ো আন্দোলনের কথা। এরপর তাঁকে কারারুদ্ধ করে ইংরেজ সরকার। যদিও শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের এদেশ থেকে পাত্তারি গোটাতে হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here