হলুদ বর্না দশভূজার বাহন শ্বেত-অশ্বাকৃতির সিংহ!

0
1120

পল্লবী সান্যাল : কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলিতে দুর্গা পুজোর আড়ম্বর কিছু কম নয়। বাড়ির পুজো থেকে পাড়ার পুজো সবেতেই চলে হুল্লোর। নদিয়ার শান্তিপুরে শতাব্দী প্রাচীন বাড়িগুলিতে আজও দুর্গা পুজো হয় নিষ্ঠা ভরে। এমনই একটি বাড়ি হল চাঁদুনি বাড়ি।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, চাঁদুনি বাড়ির পুজো শুরু হয় আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৫০০ বছর আগে। পুজোর প্রতিষ্ঠাতা গৌরাঙ্গদেবের  গৃহশিক্ষক শ্রী কাশীনাথ সার্বভৌমের হাতে। চাঁদুনি বাড়িতে এক চালচিত্রে অবস্থান করেন দেবী দুর্গা ও তাঁর চার সন্তান। প্রতিমার বৈশিষ্ট্য হল দেবী এখানে দশভুজা, গায়ের রঙ হলুদ। সঙ্গে শ্বেত -অশ্বাকৃতির সিংহ।  চাঁদুনি বাড়িতে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় জন্মাষ্টমীর পরে নন্দোতসবের দিন। বাড়ির পুরহিত দেবী দুর্গার গায়ে মাটি ছুঁইয়ে প্রতিমা তৈরি করতে শুরু করেন।

শোভাবাজার রাজবাড়ীর পকান্ন

ষষ্ঠীতে বোধন দিয়ে দুর্গোতসব শুরু হয় বাঙালির। এদিন সন্ধ্যায় মাকে বরণ করার রীতি রয়েছে। এরপর সপ্তমী থকে নবমী পর্যন্ত নিষ্ঠা ভরে পুজোর পাশাপাশি থাকে ভোগের বযবস্থাও। প্রত্যেকদিন দেবীকে নিবেদন করা হয় আটরকম ভাজা সহ খিচুড়ি, দুই রকমের তরকারী, চাটনি, পায়েস। যদিও আগে শুক্ত,মান,কচু,ওলের ডালনার মতই অনেক ধরনের পদ রান্না হলেও বর্তমানে রান্না করা  রকমারি পদের সংখ্যা কমে এসেছে। একসময় চাঁদুনি বাড়ির পুজোয় ছাগ বলির প্রচলন ছিল।এখন তার পরিবর্তে সপ্তমী থেকে নবমী তিনদিন দেওয়া হয় চালকুমড়ো ও আখ বলি। দশমীতে  রীতি মেনে পান্তাভাত ও ইলিশমাছের টক রান্নার প্রচলন রয়েছে। কারণ হিসেবে জানা যায় গৃহবধূরা শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার সময়ে যাতে অভুক্ত না থাকে তাই এই আয়োজন ।ওই দিন বিসর্জনের আগে তেল ও লঙ্কা বাদে সমস্ত রকমের মশলা দেবীকে অর্পণ করা হয়। এই রীতিও চাঁদুনি বাড়ির বহু প্রাচীন। দশমী পুজোর শেষে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here