লকডাউনই সমস্যার সমাধান নয়: অধীররঞ্জন  

0
89

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ দেশে ও রাজ্যে নিত্যদিন নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস। বাড়ছে মৃতের হারও। সাম্যবাদী চরিত্রের এই ভাইরাসকে চিন্তিত আট থেকে আশি। করোনার বাড়বাড়ন্ত রুখতে রাজ্যে জারি করা হয়েছে সপ্তাহিক লকডাউন। সপ্তাহিক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে এক ভিডিও বার্তা মারফত, বাংলায় শুধুমাত্র সপ্তাহের দুদিনের এই লকডাউন করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ট কিনা প্রশ্ন তুলে সরব হন  সর্বভারতীয় প্রদেশ কংগ্রেসের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে করোনা মোকাবিলার জন্য শক্তপোক্ত কনটেন্টমেন্ট দরকার এবং তার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে খবর নিয়ে নজরদারি চালনো দরকার। পশ্চিমবঙ্গে শুধুমাত্র লকডাউন হচ্ছে কিন্তু তার পাশাপাশি বাকি যা করণীয় সেখানে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

করোনা রোগীদের যারা সেবা করছে অর্থাৎ করোনা  চিকিৎসায় যারা প্রতিমুহূর্তে নিজেদেরকে  নিয়োজিত করেছে তাদেরও মাসের পর মাস একইভাবে চলতে চলতে অবসাদ আসে আর অবসাদ এলে ডিউটির পরিবর্তন বা রোটেশন করতে হয় কিন্তু রাজ্যে সেটা হচ্ছে না, এমনটাই মন্তব্য করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অধীর। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অনায়াসে অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, যেসব ছাত্ররা মেডিক্যালে পড়াশুনা করছে, নার্সের যারা ট্রেনিং নিচ্ছে, সকলকে কিন্তু করোনা মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। শুধু মাত্র লকডাউনই সমস্যার সমাধান নয়, পাশাপাশি এইসব ব্যবস্থাগুলিও নিতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি জানান যে কিট, পর্যাপ্ত অক্সিজেন, মেডিসিনের যেমন দরকার, তেমনি হাসপাতালে বেড, ডাক্তার সবকিছুরই একটি সমন্বয় সাধন দরকার। বাংলায় সেই সমন্বয় সাধন হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আমার খেয়াল হল ডেকে দিলাম সপ্তাহে দুদিন আমি লকডাউন। বৃহস্পতিবার লকডাউন করলাম ,শনিবার বললাম আরামশে ঘোরো। আজকে একবার লকডাউন করলাম কালকে বলব আরামশে ঘোরো আবার। তো কী লাভ হল আমার? নজরদারি কই? বাকি ব্যবস্থাদি কই?” পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কেরল, গোয়া, দিল্লি, কর্ণাটকের কো-পরিস্থিতির তুলনা টেনে এনে এবং সে সকল রাজ্যগুলি সামলে উঠেছে বলে জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কো-পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উদগ্রে দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের এটাই ব্যর্থতা, এমনটাই মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি জানান, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা বারবার বলছি যে আপনি করোনা নিয়ে আরও বেশি সিরিয়াস হোন, আরও বেশি সিনসিয়ার হোন। করোনা নিয়ে শুধুমাত্র এটা করলাম, ওটা করলাম, বলে দিলাম হয়ে গেল, হবে না। একটি শক্তপোক্ত পরিকল্পনা করে, সুস্থ মাথায় বিবেচনা করে, একটা স্ট্রাটেজি করে আপনাকে এগোতে হবে। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here