জানেন কি ডামরতন্ত্র মতে মাংসের বিকল্প পিঠে?

0
39

নিজস্ব প্রতিবেদন(দেবস্মিতা ঘোষ)১০.১১.২০২০:

মদ্য,মাংস,  মৎস্য, মুদ্রা ও মৈথুন নির্বাণ তন্ত্র মতে এই পাঁচটি কে বলা হয় পঞ্চমকার। এই পঞ্চমকার দিয়ে সাধকরা শক্তি আরাধনা করে থাকেন। অদ্বৈতভাব পরায়ন ব্রহ্মনিষ্ঠ সাধকই পঞ্চতত্ত্বযুক্ত সাধনার অধিকারী। পঞ্চতত্ত্বের মধ্যে পঞ্চমহাভূত দেখানো হয়েছে। পঞ্চতত্ত্বের তিনটি প্রকারভেদ প্রত্যক্ষ তত্ত্বা ,অনুকল্প তত্ত্ব, দিত্ব তত্ত্ব।

মদ প্রসঙ্গে তিনটে তিন রকম ধারনা রয়েছে ।”পরশুরাম কল্পসূত্র” অনুযায়ী প্রত্যক্ষ মদ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে তাল খেজুর প্রভৃতি গাছের রস থেকে উৎপন্ন বা গাছের ছাল থেকে তৈরি মদ ।অনুকল্প তত্ত্ব অনুযায়ী কাঁসার পাত্রে নারকেল জল বা তামার পাত্রে দুধ তাকেই বলা হয় মদ।

দিব্য তন্ত্রের ব্যাখ্যায় মদ প্রসঙ্গে ভৈরব জামালে বলা হয়েছে ব্রহ্মরন্ধ্র স্থিত সহস্রাব্দ চন্দ্রকলা থেকে বিগলিত অমৃতধারা সাধকের পেয় সুধা ।কোন কোন জন্তুর মাংস প্রশস্ত তন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে এই সব প্রাণীদের মধ্যে সজারু, হরিণ, সারস, হাস ,প্রভৃতির কথা বলা হয়েছে ।তন্ত্রমতে,শোল,বোয়াল, রোহিত- এই তিন রকমের মাছ উত্তম। কাঁটা শূন্য  তৈলাক্ত মাছ মধ্যম ও মৎস্য ক্ষুদ্র হলে অধম। তন্ত্রমতে চর্বণীয় তাই মুদ্রা যেমন ছোলা কলাই দিয়ে তৈরি অথবা তেলেভাজা দ্রব্য মুদ্রা। আর যুগলের সংযোগে মৈথুন।সাধনার অঙ্গীভূত মুখ্য শিব স্বরূপ সাধকের সঙ্গে স্বরূপিনী স্বাধীকার সংযোগ।

অনুকল্পতত্ত্বের ব্যাখ্যায় ‘ডামরতন্ত্র’ মতে, মাংসের অনুকল্প পিঠে। কৌলাবনী নির্ণয় অনুসারে মহিষদুগ্ধ, গোদুদ্ধ, ছাগদুগ্ধ এবং ফলমূল দগ্ধ হলেই আমিষ হয়ে যায়। নৈবেদ্যই মুদ্রা। আর মৈথুন প্রসঙ্গে ‘যোগিনীতন্ত্র’ বলা হয়েছে, রক্তকরবী লিঙ্গপুষ্প এবং কৃষ্ণ অপরাজিতা যোনিপুষ্প। এই উভয়ের সংযোগ পঞ্চমতত্ত্বের অনুকল্প।

দিব্যতত্ত্বের ব্যাখ্যায় মাংস প্রসঙ্গে ‘কুলার্ণবতন্ত্র’-এ বলা হয়েছে— জ্ঞান খড়গের দ্বারা পূণ্যাপুণ্য রূপ পশুকে বধ করে পরশিবে চিত্ত লয় করার নাম ‘মাংস’। ‘মৎস্য’ প্রসঙ্গে ‘আগমসার’-এ বলা হয়েছে— গঙ্গা ও যমুনার মধ্যে দু’টি মৎস্য সর্বদা ঘুরে বেড়াচ্ছে। যিনি মৎস্য দু’টি ভক্ষণ করতে পারেন তিনি মৎস্য সাধক। গঙ্গা ও যমুনা হচ্ছে ইড়া ও পিঙ্গলা নাড়ী। মাছদু’টি ইড়া ও পিঙ্গলাতে প্রবাহিত নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাস। যিনি কুম্ভক করে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস রোধ করতে পারেন, অর্থাৎ এইভাবে মনস্থির করতে পারেন, তিনি মৎস্যসাধক। অসৎসঙ্গ পরিত্যাগকে ‘মুদ্রা’ বলা হয়। আর সাধক দেহে শিব-শক্তি মিলনই মৈথুন।

পঞ্চতত্ত্ব সাধনা অদ্বৈতভাবের সাধনা। একমাত্র গুরুর কাছেই এই সাধনার ক্রিয়াকলাপ শিখতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here