মেয়েদের যৌনাঙ্গের এই বিশেষ রোগের কথা জানুন……

0
1174

নিজস্ব প্রতিনিধি ১০.০৯.২০২০:পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা পিসিওএস নারীদের একটি জটিল রোগ। এ রোগে ডিম্বাশয়ের মধ্যে অনেক সিস্ট হয়। সাধারত কিশোরী বয়স থেকে এ সমস্যা শুরু হতে দেখা যায়।


প্রায়ই নারীদের বলতে শোনা যায়, তাঁদের ওভারিতে (ডিম্বাশয়) সিস্ট আছে। কেউ বলেন, তাঁর হরমোনের সমস্যা। কী করে বুঝলেন? আসলে বিষয়টি কী? হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে একজন নারীর শারীরিক কিছু পরিবর্তন এবং ওভারিতে বিশেষ ধরনের কিছু সিস্ট তৈরি হওয়ার এই সমস্যার সামগ্রিক নাম পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম।

প্রজননক্ষম নারীদের ২ থেকে ২০ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত। বিশ্বে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে এই সমস্যার নারীরদের।কারণ, তাঁদের শরীরের ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ফাস্ট ফুড ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ ইত্যাদি। পরিণামে শরীরে এন্ড্রোজেন হরমোন বাড়ে, হরমোনের সামঞ্জস্য বিনষ্ট হয়। ডিম্বাশয়ে সমস্যা এবং সিস্ট তৈরি হয়। অনেক সময় জিনগত ও ইমিউন সিস্টেমের দুর্বলতাও এ সমস্যার জন্য দায়ী।

লক্ষণ: অনিয়মিত মাসিক অথবা মাসিক বন্ধ থাকা, ব্রণ এবং মুখ, গলা, বুক ও পেটে অতিরিক্ত লোম, গলা বা হাত বা শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে কালো ছোপ ছোপ দাগ, মাথার চুল পাতলা হওয়া বা পড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ওজন, বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত ইত্যাদি।

প্রতিকার: অল্প বয়সে মাসিকের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্তে হরমোন পরীক্ষা ও ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফি করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

*  খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন। অধিক প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার খান, খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। প্রচুর জল খাবেন।একবারে না খেয়ে নিয়মিত বিরতিতে একটু পরপর খাবেন, দরকার হলে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট লাগতে পারে। চা, কফি কম খাবেন।

* নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং সক্রিয় থাকুন। দুশ্চিন্তা, হতাশা থেকে দূরে থাকুন। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ধূমপান ছাড়ুন।   

*  চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন। বন্ধ্যাত্বের সমস্যা থাকলে বিশেষ চিকিৎসা নিতে হবে ।

সময়মতো চিকিৎসা না করলে পরে নানা জটিলতা হতে পারে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা হার্ট অ্যাটাক, রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি, হতাশা, বিষণ্নতা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত ও জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আপনি একা এই সমস্যায় ভুগছেন না, এমন হাজার হাজার রোগী আছেন। হতাশা আর লজ্জা দূর করে অন্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। নিজের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন। আপনার যেকোনো প্রশ্ন বা সহায়তার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here