জেনে নিন তর্পণের খুঁটিনাটি

0
212

পল্লবী সান্যাল : রাত পেরলেই মহালয়া। আর মহালয়া মানেই তর্পণ। হিন্দুদের বিশ্বাস, তর্পণ করার জন্য এক বিশেষ পর্ব হল মহালয়া। যা পিতৃপক্ষের পূর্বপূরুষের তর্পণাদির জন্য প্রশস্ত পক্ষ। মহালয়ায় তর্পণ কার শুভ বলে বেশিরভাগ মানুষই তাদর পিতৃ পুরুষদের জল দানের জন্য মহালয়ার দিনটিকেই বেছে নেন। তর্পণ কথাটি এসেছে তৃপ থেকে। তৃপের অর্থ সন্তুষ্ট করা। পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির জন্য জল নিবেদন করার রীতিই হল তর্পণ।

আশ্বিনের কৃষ্ণপক্ষের তিথিকে বলা হয় মহালয়া। মহালয়া মানে দেবীপক্ষের সূচনা। এইদিনে পিতৃপুরুষেরা পিতৃলকে ফিরে যান। তাই তাদের জল নিবেদনের জন্য মহালয়া দিনটি পুণ্য লগ্ন বলে মনে করা হয়।মহালয়ার সকালে তর্পণের জন্য গঙ্গার ঘাটে ভিড় উপচে পড়লেও শুধুমাত্র যে গঙ্গার ঘাটেই তর্পণ করা যায় তেমনটা নয়। নিকটবর্তী পুকুর বা জলাশয়েও তর্পণ করা যেতে পারে।

তর্পণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী  – মন্ত্র পাঠের জন্য গঙ্গা জল, চন্দন, কালো তিল এবং কুশ, তুলসীপাতা, হরিতকী, চাল ও দূর্বা।

তর্পণের সময় পালন করুন এই নিয়মগলি –

  • তর্পণ করার আগে স্নান করে প্রথমে পূর্ব মুখে নদী বা জলাশয়ে গিয়ে নাভি পর্যন্ত জলে দাঁড়াতে হয়।
  • কমপক্ষে ৫-৬ ইঞ্চি উঁচু থেকে জলদান করতে হবে।
  • পৈতে বাম কাঁধে রেখে জল বা মাটি দিয়ে তিলক ধারণ করতে হবে।
  • তর্পণের শুরুতে আচমন ও বিষ্ণু মন্ত্র স্মরণ করতে হবে।
  • করজোড়ে তিনবার বিষ্ণুকে স্মরণ করুন।
  • আপনাকে আপনার বেদ অনুসারে তিনবার করে মন্ত্র পড়ুন এবং তিনবার জল দান করুন।
  • পিতৃ তর্পণ করতে ছয়টি কুশ একত্রে করে তিনটি কুশ নিন এবং অনামিকা আঙুলে আংটির ভঙ্গীতে ধারন করে তর্পণ করতে হবে। তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠের মধ্যভাগ উপবীতকে দক্ষিণ স্কন্ধে ঝুলিয়ে দিয়ে তিল সহ জল দান করতে হবে।
  • পিতৃ পুরুষদের উদ্দেশ্যে দান করা জল যেন বৃষ্টির জলের সঙ্গে না মিশে যায়। বৃষ্টি হলে ছাতা ব্যবহার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here