দুর্গা ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমীর পাঁচ কাহন

0
215

পল্লবী সান্যাল : ষষ্ঠী থেকে দশমী চার ছেলেমেয়কে নিয়ে মর্ত্যে কাটে দেবী দুর্গার। বাঙালিরাও এই কটা দিন মেতে থাকে তাদের শ্রেষ্ঠ উতসব দুর্গা পুজো নিয়ে । জেনে নিন দুর্গা ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমীর পাঁচ কাহন।

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, মহা ষষ্ঠীর দিন লক্ষী স্বরস্বতী কার্তিক গণেশকে নিয়ে মর্ত্যে পা রাখেন মা দুর্গা। ষষ্ঠী মানেই বোধন ও অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হয় দেবীর আরাধনা। আবার কোথাও কেথাও রামচন্দ্রের অকাল বোধনের রীতিও প্রচলিত রয়েছে।

এরপরই আসে মহা সপ্তমী। রীতি অনুযায়ী এদিন কলা গাছের অংশকে গণেশের স্ত্রী কলা বউ সাজানো হয়। সপ্তমীতে ভোরের আলো ফোটার আগে কলা বউকে স্নান করিয়ে নতুন শাড়ি পড়িয়ে গণেশের পাশে স্থাপন করাই নিয়ম। পাশাপাশি দবী দুর্গার ৯ টি রূপের প্রতীক হিসেবে ৯ ধরণের গাছ তথা নব পত্রিকাকে একত্রিত করা হয়। সেই নবপত্রিকাকেও স্নান করানোর রীতি রয়ছে দুর্গা সপ্তমীতে। স্নানের পর নববস্ত্র পরিহিত অবস্থায় দেবী দুর্গার ডান পাশে কাঠের সিংহাসনে স্থাপন করা হয় নবপত্রিকাকে।এরপর মহাস্নানের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের মূল অনুষ্ঠানের প্রথাগত সূচনা হয়। দুর্গা প্রতিমার সামনে দর্পন রেখে (কখনও জল ভর্তি কলস রেখে) তাতে প্রতিফলিত প্রতিবিম্ব শুদ্ধ দল দিয়ে স্নান করানো হয়।

সপ্তমীর পর মহাষ্টমী। সকালে স্নান সেরে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দেবী দুর্গাকে মনের বাসনা জানানো হয়ে থাকে।মহাষ্টমীর দিন চামুণ্ডা রূপে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। এদিন বেলুড় মঠ ও বনেদী বাড়ির পুজোগুলিতে কুমারী পুজোর চল রয়ছে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এক সময় স্বর্গ ও মর্ত্যে – দু জায়গাতেই অধিকার কায়েম করে কোলাসুর। তার অত্যাচারে বিপন্ন হয় দেবতা-কুল। উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে মহাকালীর শরণাপন্ন হন দেবগণ। তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী কালী কুমারী রূপে পুনর্জন্ম নেন। এরপর ভয়ঙ্কর যুদ্ধের পর ওই কুমারীর হাতে কোলাসুরের নিধন হয়। এরপর থেকে মর্ত্যে কুমারী পুজোর প্রচলন হয় বলে পুরাণে বর্ণিত।

মহাষ্টমীর শেষ ও নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজো হয়ে থাকে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, মহাষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে সন্ধিপুজো সম্পন্ন করতে হয় মোট ৪৮ মিনিটের মধ্যে।কথিত রয়েছে, এই সময় দেবী দুর্গা পুজিতা হন মুণ্ডমালিনী চতুর্ভুজা চামুণ্ডারূপে। ওি সময়েই নাকি মা দুর্গার ললাট থেকে জন্ম নেওয়া চামুণ্ডা, অসুরদ্বয় শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন। সন্ধিপুজোয় ১০৮ টি পদ্ম মায়ের পায়ে সমর্পণ করা সহ ১০৮ টি প্রদীপের আরতি করা হয়ে থাকে।

মহানবমীর পুজো সম্পন্ন হওয়া মানেই দেবীর স্বর্গে ফিরে যাওয়ার পালা। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ও ৯ রাত ধরে যুদ্ধের পর দশম দিনে জয় লাভ করেছিলেন দেবী দুর্গা। সেই জয়কেই চিহ্নিত করে বিজয়া দশমী। একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে সেই জয় উদযাপন করা হয়। বড়দের প্রণাম করা হয় ও সমবয়সীদের সঙ্গে চলে কোলাকুলি। নারী শক্তির জাগরণে সিদুঁর খেলায় মেতে ওঠেন মহিলারা।






LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here