ইন্দ্রাণী দত্ত-র শ্যামা বন্দনা…..

0
44

“সূর্য তাকেই দেখতে চায়…আকাশ তাকেই ডাক পাঠায়…”..গানের পংক্তি টা শুনে বুঝতেই পারছেন কার কথা বলছি…অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী ইন্দ্রাণী দত্ত।তাঁর ভুবন ভোলানো হাসি,তাঁর মিষ্টি ব্যাবহার ও অবশ্যই তাঁর অসাধারন অভিনয় এবং নাচ বহু বছর ধরে মানুষের মন জয় করে এসেছে। দর্শকরা তাঁকে বড়ো পর্দায় দেখে অভ্যস্ত।ছোটো পর্দায় টেলিফিল্ম,রিয়ালিটি শো এ বিচারক হয়তো হয়েছেন।কিন্তু ধারাবাহিকে তাকে সে ভাবে কখনোই দেখা যায় নি।তবে সম্প্রতি বলা যেতে পারে প্রথমবার একটি জনপ্রিয় চ্যানেলে এক ধারাবাহিকে তিনি অভিনয় করছেন।

সামনেই বাঙালির পর পর বেশ কয়েকটা উৎসব।কালীপুজো,ভাইফোঁটা,জগদ্ধাত্রী পুজো…কেমন ভাবে কাটাবেন তিনি?কেমন আছেন তিনি এই মহামারীতে মঞ্চ ছাড়া?সংবাদ টিভিকে দেয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে তুলে ধরলেন তাঁর মনের কথা।

প্রঃ অন্যবছর কালীপূজো কি ভাবে কাটানো হয়?

উঃ- আমার বাড়িতে দুর্গাপূজা লক্ষ্মীপুজো দুটোই হয়, পারলে কালী পুজোটাও হয়…. (হাসি)। বাড়িতে দুর্গা পুজো হওয়ার কারণে সেই সময় বাইরের ব্যস্ততাটা কে একটু দূরে রাখি। শো বা শুটিং করিনা ,তাই কালী পুজোতে কাজের চাপ থাকে। শো থাকে এছাড়াও  আমি যেহেতু বাড়ি সাজাতে ভালোবাসি তাই পুরো বাড়ি ভালো করে সাজাই ।আমি নিজে বাজি পোড়াই না।তবে অন্যরা যখন আনন্দ করে, বাজি পোড়ায় সেটা আমার খুব ভালো লাগে। শব্দবাজি আমাদের বাড়িতে কখনোই পোড়ানো হয় না ।

তবে চড়কি,তুবড়ি,রংমশাল,প্যারাসুট,সেল অর্থাৎ শব্দহীন বাজি পোড়ানো হয় ।আমি সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য ছাদের চারিপাশে বালতিতে জল রাখি, যেগুলো পোড়ানো হয়ে যায় সে গুলোকে এক জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করি। যেহেতু আমি বাজি পোড়াই না তাই বাকিরা যাতে সুস্থ ভাবে আনন্দ করতে পারে তার চেষ্টা করি।

আরও দেখুন

প্রঃ- এ বছর কোভিডের কারণে সব উৎসবই অনেকটা ফিকে।আপনি এ বছর কালীপুজো কি ভাবে কাটাবেন?

উঃ- এবছর  আমরা বাড়িতে বাজি পোড়াবো না ।শুধুমাত্র কোর্ট বারণ করেছে বলে নয়, সবার কথা ভেবে তেমনটাই ঠিক করেছিলাম। কিন্তু ডেকোরেটিভ দিয়া ও বিভিন্ন রকমের আলো দিয়ে বাড়ি সাজাবো ।সেরকমই ইচ্ছে আছে ।তবে যেহেতু সম্প্রতি একটা ধারাবাহিকে কাজ করছি শুটিংও থাকতে পারে।

প্রঃ- অন্যান্য বছর আপনার তো অনেক পুজো উদ্বোধন।থাকে সেগুলো কি এবার আসছে ? উদ্বোধনী কাজ থাকলে কি আপনি করছেন?

উঃ- অন্যান্য বছর দুর্গাপুজো, কালীপুজো, এমনকি জগদ্ধাত্রী পুজোতেও  উদ্বোধন করা,  বিচারক হিসেবে যাওয়া থাকে।

আরও দেখুন

এবছরও ডাক আসছে, তবে আদৌ যাবো কিনা তা নিয়ে দ্বন্দ্বে। যাওয়াটা ঠিক হবে কিনা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না ।তবে আমার মতে এবছর সবাইকেই ভেবে এই কাজগুলো করতে হবে ।যারা ডাকছেন তাঁদেরও ভাবা উচিৎ ও যারা যাবেন তাঁদেরও ভাবা উচিৎ।

প্রঃ- আপনি বললেন অন্য বছর কালীপুজোয় শো থাকে। শুধুমাত্র কালীপুজো নয় ,এই করোনার প্রকোপে অনেকদিন হয়তো মঞ্চে যাওয়া হচ্ছে না। কারণ শহরের সব অডিটোরিয়াম বন্ধ আর লোক জমায়েত ও ঠিক নয় ।মঞ্চকে কতটা মিস করছেন?

উঃ- (দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে)….মারাত্মক। প্রথম দুমাস খুব হতাশ হয়েছিলাম। অত্যন্ত দুঃখ লাগছিলো এটা ভেবে যে বহু মানুষ মহামারীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তবে যারা পারফর্মিং আর্টিস্ট  তারা তো সারাক্ষণই একটা ব্যস্ততা তে থাকি।সমানে একটা পরিশ্রমের মধ্যে থাকি।পরিশ্রম বলছি তবে এটা করতেও নিজের অসম্ভব ভালো লাগে ।তাই সেটাকে আর পরিশ্রম মনে হয় না। তবে কোভিড এর সময় যেহেতু আমাদের বাড়ির পরিচারিকারা আসছিলেন না তাই সে সময় আরো বেশি করে ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। কিছুদিন পরে মনে হলো “আই এম নট ডুইং এনিথিং”… তখন নাচের ভিডিও করে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতে শুরু করলাম এবং কিছু ডিজিটাল শো করেছি। মঞ্চের যে উন্মাদনা দর্শকদের হাততালি এবং একটা পারফর্মিং আর্টিস্ট  পারফর্ম করতে করতে বুঝতে পারে যে তাদের পরিবেশনা দর্শকদের ভালো লাগছে কিনা। এই সমস্ত জিনিসটা অসম্ভব মিস করছি।

এই স্বাদ কোনভাবেই ভার্চুয়াল প্রোগ্রাম করে পাওয়া যায় না। ভেবেছিলাম আমার কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে একটা ভার্চুয়াল শো করবো কিন্তু পরে ভাবলাম যেখানে আমাদের হাউসফুল অডিটোরিয়ামে শো করা অভ্যাস বা মাঠ ভর্তি লোকের সামনে উপস্থাপনা করা অভ্যাস সেখানে লাইভ শো করে যদি দেখি দু তিন জন দেখছে তাহলে খারাপ লাগবে।যে ভালোলাগাটার জন্য করা সেটাই শেষ হয়ে যাবে।তাই মঞ্চকে  আমি ভীষণ…ভীষণ… ভীষণ… মিস করছি।

প্রঃ- কালীপুজোর একদিন পর ভাইফোঁটা সেই ভাইফোঁটায় কি করেন ?আর এ বছরই বা কি করবেন?

উঃ-আমাদের বাড়িতে ভাইফোঁটার রীতি নেই। আগেকার দিনে বড়োরা যদি কোন দিন কোন অশুভ ঘটনা ঘটতো তা বন্ধ করে দিতো।সে ভাবেই আমাদের বাড়িতে ভাইফোঁটা  নেই তবে ভালোবাসা বিনিময় ফোনে হয়,সেটা রাখিতেও ও ভাইফোঁটাতেও। সেরকম ভাবেই এবছরও হবে।

প্রঃ- আপনি সম্প্রতি একটি ধারাবাহিকে কাজ করছেন। সম্ভবত এটাই আপনার প্রথম মেগাসিরিয়াল। কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

উঃ- সম্ভবত নয় এটাই আমার প্রথম ধারাবাহিক। আমি মূলত বড়ো পর্দায় কাজ করি ।তবে আগে যে ডিরেক্টররা বড় পর্দায় কাজ করতেন, তাদের ডিরেকশনে কিছু টেলিফিল্ম করেছি বা কিছু দিনের জন্য কোনো রিয়েলিটি শো এর বিচারক হিসেবে গিয়েছি কিন্তু ধারাবাহিক অর্থাৎ মেগাসিরিয়াল যাকে বলে সেটা আমার প্রথমবার। টেলিভিশন করিনি তার কারণ টেলিভিশনে অনেক বেশি কমিটমেন্ট দরকার। আমার নাচের জন্য শো করতে হয়, সেই শো এর রিহার্সাল করে সেই টাইমটা বার করা অনেক সময় মুশকিল হয়ে যেত ।আজকাল সিনেমায় মাত্র ১৩ থেকে ১৫ দিনের শ্যুটিং শেষ হয়ে যায় ।কিন্তু মেগাসিরিয়ালে একটা ধারাবাহিকতার ব্যাপার থাকে।

তাতে প্রতিদিনের একটা কমিটমেন্ট এর ব্যাপার থাকে। সেই কারণেই করা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে শো করা হচ্ছে না বলে ,যখন আমার কাছে অফারটা আসে আমার মনে হয় এখন করাই যায় ।তাই জন্যই ধারাবাহিকে কাজ করা। এখন  আমি কাজটাকে  খুব ভালোবেসে ফেলেছি ,আমার খুব ভালো লাগছে। তবে অনেকেই মনে করছেন আমি এখানে নেগেটিভ রোল করছি।  সেটা একেবারেই নয় ।এই চরিত্রটার মধ্যে একটা বেদনা আছে ,একটা না পাওয়ার দুঃখ আছে… তা প্রকাশ পাচ্ছে আমার চরিত্রের মধ্য দিয়ে ।সেটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রত্যেকদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ম্যাসেজ পাই- “দিদি আপনাকে এরকম দেখতে ভালো লাগছে না।” কিন্তু দর্শকদের আমার একটাই কথা বলার যে এইটা চরিত্রটা ,এটা আমি নয়। আসলে দর্শকরা আমাকে এরম দেখে অভ্যস্ত নয় ।তারা বরাবর দেখেছে আমি খুব সফ্ট চরিত্রে অভিনয় করছি। প্রথমদিকে আমার এই চরিত্রটা করতে অসুবিধা হচ্ছিল কারণ এই চরিত্রের যে বর্ণনা  সেটা আমার ব্যক্তিগত জীবনের থেকে অনেকটা আলাদা। এমনকি সেটেও আমাকে অনেক সময় মনে করিয়ে দেওয়া হয়  আমরা “স্যুইট ইন্দ্রাণীকে চাইছিনা। একটু “রাগী ইন্দ্রানী” কে চাইছি।তখন আমাকে মুডটা চেঞ্জ করে নিতে হয়।

প্রঃ- এখন তো শুটিং চলছে।কিন্তু  আমরা তো পুরো বিপদ মুক্ত নয় ।এখন কি কি সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে শুটিং ফ্লোরে?

উঃ- সাবধানতা বলতে সবাই মাস্ক পড়ে ঢুকছি মাস্ক পড়ে বেড়োচ্ছি। মেক আপ ম্যান থেকে ফ্লোরে যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই মাস্ক পড়ে থাকছেন ।আমি নিজে মেকআপ রুমে ঢুকে সেটাকে  স্যানিটাইজ করছি।  তবে হ্যাঁ একটা রিস্ক ফ্যাক্টর থেকেই যাচ্ছে কারণ অভিনয় করার সময় আমরা মাস্ক পড়তে পারছিনা ।

আমরা এরকম ভাবেই কাজ করছি সাবধানতা অবলম্বন করে। আর কারোর যদি শরীরে কোন প্রবলেম হয়, সে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখাচ্ছে তেমন হলে তাকে কোয়ারেন্টাইন এ থাকতে হচ্ছে। আসলে আমরা যে সময় দিয়ে যাচ্ছি, এখন আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ সাবধান হয়ে থাকা। নিজের সাবধানতা নিজের কাছে ।আমরা প্রত্যেকে যদি সতর্ক হয়ে চলি তবেই কিন্তু এই মহামারী থেকে আমরা মুক্তি পাবো।আমি নিজে রোজ ফিরে ভেপার নেওয়ার চেষ্টা করছি।এবং সবাইয়ের এটা করলে ভালো হয় ।

প্রঃ- সর্বশেষ জিজ্ঞেস করছি দর্শকদের এই উৎসব নিয়ে কী বলবেন?কি বার্তা দেবেন?

উঃ- এই উৎসব নিয়ে একটাই কথা বলব …এবছর আনন্দটা একটু দূরে রেখে আমরা সাবধানতা অবলম্বন করি ।এমনিতেও বাজি পোড়ানো বারণ তা সত্ত্বেও বলছি কোনো রকমের বাজি না পোড়ানো শ্রেয়। সেটা নিজেদের জন্য এবং অপরের জন্য ।এখনও অবধি বহু মানুষকে দেখছি রাস্তায় ঠিকঠাক স্যানিটাইজার ব্যবহার না করতে ।তাদেরকে বলব তারা সচেতন হোন কারণ আপনি শুধু আপনার জন্য সচেতন হচ্ছেন না ,সচেতন হচ্ছেন অপরজনের জন্য। মাস্ক না পড়লে শুধু আপনার ক্ষতি না আপনার পাশে থাকা মানুষগুলোরও ক্ষতি। তাদের কথা ভেবে নিজেদের সাবধানতা অবলম্বন করুন। এবং এবছর এই উৎসব যতটা সম্ভব ছোটো করে হোক সেটাই কাম্য ।পূজা হলেও তার ছোট করে হোক, নিজের বাড়িতে ঘর সাজানো অল্প করে হোক ।আমিও তাই করবো ।এর বেশি কিছু নয়। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং অবশ্যই সতর্ক থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here