কালীঘাটের পার্টি কালীঘাটে শেষ সভা করলঃ রাহুল সিনহা

0
105

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এবছর তৃণমূল কংগ্রেস শহীদ দিবস পালন করতে একুশে জুলাইয়ে সভা করেছে ভার্চুয়ালি। তা নিয়েই সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভা বিজেপিকে অনুসরণ করেই করা তাই বিজেপি এক নম্বরে আর তৃণমূল চলবে দু নম্বরে; এটাই ভবিতব্য, এমনটাই মন্তব্য করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাহুল সিনহা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নয় বছরে কিছু করতে পারেননি আজ আশার আলো দেখাচ্ছেন?যাদের জন্য শহীদ দিবস তাদের একজনেরও নাম মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেননি এবং তাদের আত্ম বলিদান তৃণমূল ভুলে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন বাংলার মানুষকে ঠকানোর জন্য, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে অভিসম্পাত করছে এবং মহাকরণ অবরোধের সেই শহীদরাও তৃণমূলকে অভিসম্পাত করছে। তিনি পাশাপাশি আরও বলেন যে শহীদ বেদীতে মালা পর্যন্ত দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস সেই কারণেই শহীদদের অভিশাপ তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর লাগবে এটা তারা বিশ্বাস করেন। এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ ২১ তারিখের সভা এবং এই সভাটাই ঐতিহাসিক শেষ সভা হবে তৃণমূল কংগ্রেসের বলে কটাক্ষ করে  রাহুল বলেন, “কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম আর কালিঘাটেই আজকে প্রায় মৃত্যু হল তৃণমূল কংগ্রেসের। কালীঘাটের পার্টি কালিঘাটেই ঢুকে গেল। এটাই ভাগ্যচক্র, এটাই ভবিতব্য ছিল।”

মুখ্যমন্ত্রীর বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার প্রসঙ্গে সরব হয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় তৃণমূল থাকবেই না তাহলে রেশনের প্রশ্ন উঠছে কি করে। তিনি জানান, “আজকে উনি বলছেন আমরা যদি ক্ষমতায় থাকি, হঠাৎ করে কেন বললেন যে আমরা যদি ক্ষমতায় থাকি? কদিন আগেও তো বলেছেন ২৯৪, খুব বড়জোর ৪-৫ টা আসন বিজেপি পাবে। তাহলে আজকে কী করে ক্ষমতায় থাকি হল?” সারা দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদিকে বাংলা সহ গোটা ভারতবর্ষকে শাসন করার অধিকার দিয়েছেন বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন দলে ভাঙন আসন্ন আর তার দায় বিজেপির ওপর চাপাতে চাইছেন বলে মুখ্যমন্ত্রীকে  নিশানা করে তিনি বলেন নিজেদের দল ভাঙছে। নিজেরা দলকে চালাতে পারছেন না আর তার দায় ভারতীয় জনতা পার্টির ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। উত্তর দিনাজপুরের চোপরার কান্ডকে টেনে এনে সেই ঘটনার উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রী করেননি বলে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন এর থেকে বোঝা যাচ্ছে এই রাজ্যে ধর্ষণে কেন ভারত চ্যাম্পিয়ন। মুখ্যমন্ত্রী রেপিস্ট, খুনিদের আগলে রেখেছেন তার জন্য এই রাজ্যে লাগাতার অনাচার অত্যাচার মানুষের ওপর চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী আজ বিজেপি ও সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাহুল বলেন,”সংবাদমাধ্যম ওনার কোন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়েছেন আমি জানি না। সংবাদমাধ্যমের ওপর উনি একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে গেছেন। এক একটা পোর্টালের মালিককে জেলে পুরছেন। বিভিন্ন সাংবাদিকের ওপর মিথ্যা মামলা চাপিয়েছেন।সংবাদমাধ্যমে মনোমত খবর না হলে সেই সংবাদমাধ্যমের ওপর মিথ্যা মামলা ও অত্যাচারের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।” পশ্চিমবাংলার সর্বত্র আজ অশান্তি, সর্বত্র আজ হাহাকার, আর এই হাহাকারের কারণ তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বলে তোপ দাগেন রাহুল। বিজেপি না থাকলে মমতাও থাকত না, তৃণমূল কংগ্রেসও থাকতো না, এমনটাই জানিয়ে তিনি বলেন, কী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তা বাংলার মানুষ দেখেছেন। বাংলার মানুষ তাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন কিন্তু তাদের প্রতি কী কৃতজ্ঞতা দেখানো হয়েছে তা বাংলার মানুষ প্রতি পদে পদে ভুগছেন। সেই কারণেই বাংলার মানুষ এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে আর তারই ভয়ে বিলাপ প্রলাপ আজ মমতা ব্যানার্জির পুরো ভাষনের মধ্যে ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here