সেদিনের মহালয়া কি আজও একরকম ?

0
56

পল্লবী সান্যাল : একটা সময় মহালয়ার সকালে বাঙালির ঘুম ভাঙাতো আকাশবাণী সম্প্রচারিত মহিষাসুরমর্দ্দিনী। তবে এখন বেতারের পাশাপাশি দেবী দুর্গার অসুর বধের কাহিনীর নাট্যরূপ দেখা যায় টিভিতে। যদিও ৯০-এর দশকে এর সূচনা ঘটিয়েছিল কলকাতা দূরদর্শণ। এরপর থেকে দূরদর্শনের দেখানো পথে হেঁটে বাংলা সিনেমার নায়িকাদের দুর্গা সাজিয়ে নতুন মোড়কে অসুর বধের কাহিনীকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপনা করে আসছে টিভি চ্যানেলগুলি। সাম্প্রতিককালে টিভি চ্যানেলগুলির দৌলতে মহালয়ার অনুষ্ঠানে দুর্গার ভূমিকায় সুযোগ পাচ্ছেন ছোট পর্দার অতি পরিচিত মুখেরাও। চ্যানেলগুলির মধ্যে আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় মহালয়ার অনুষ্ঠান নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক্ষেত্রে কেন্দ্রায় চরিত্র দেবী দুর্গা ছাড়াও প্রদর্শিত হয় তাঁর অন্যান্য রূপ। ফলে টেলি সিরিয়ালের সমস্ত লিড চরিত্ররা একই সঙ্গে ধরা দেন একটি অনুষ্ঠানে। 

সেকালে শরতে শিউলির বোটা থেকে রং বের করে কাপড়ে নকশা বা রং করার চল ছিল। সেই সঙ্গে শিউলি গাছের পাতা বেটে মধু দিয়ে খাওয়া হত ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে। কিন্তু একালে শিউলি গাছের সংখ্যা কমে আসার সাথে সাথ সেই চলও অচলে পরিণত হয়েছে। এখন জ্বর ম্যালেরিয়া হলে সবার আগে চিকিতসকের পরামর্শ নেওয়া হয়। তিনি যা বলবেন সেই মতোই পথ্য চলে রোগীর। তবে এখনও রীতি মেনে গঙ্গার ঘাটে হয় তর্পণ।

বেতারে মহিষাসুরমর্দ্দিনী শোনার চল থাকলেও মোবাইল ফোনে এখন যখন তখন শোনা যায় রেকর্ডেড অনুষ্ঠান। কিন্তু মোবাইল ফোনের আগের যুগে শুধুমাত্র মহালয়ার দিনই শোনা যেত মহিষাসুরমর্দ্দিনী। শুধু মহালয়াই নয়। দুর্গা পুজোও এখন হয়ে উঠেছে অত্যাধুনিক। সেখানে থাকে থিমের ছোঁওয়া। একচালার সাবেকি সাজের দেবী প্রতিমার পাশাপাশি নিউ আর্টের প্রতিমা বানাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। ফলে সেকালের পুজো আর একালর পুজোর মধ্যেও রকমফের চলে এসেছে।

কয়েক বছর ধরে দুর্গা পুজোয় রমরমা বিজ্ঞাপনের। প্যান্ডেলের বাইরে বড় বড় হোর্ডিং ও ব্যানারে চলে সংস্থাগুলোর পণ্যের বাজারিকরণ। দুর্গা পুজোয় কাস্টমার টানতে অনেক সংস্থা আবার কেনাকাটার ওপর বিশেষ ছাড়ও দিয়ে থাকে।

একসময় মহালয়ার দিন পাড়ায় পাড়ায় নাটকের চল ছিল। পাড়ার খুদেরা সেই নাটক পরিবেশন করতো। কিন্তু এখন সে সব অতীত। উতসব পার্বণের দিনগুলিতে যে যার মতো সেলিব্রেশনে মাতে।

অন্যান্য বার পুজোর ছুটির জন্য অপেক্ষা করত স্কুল – কলেজের পড়ুয়ারা। এবছর করোনার সৌজন্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ। ফলে ঘরবন্দি হয়েই চলছে পুজোর জন্য অপেক্ষা। সেকালের তুলনায় একালের মহালয়ায় পার্থক্য থাকলেও শরতের আকাশে আজও ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা, দোলে কাশ। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here