করোনা কি শুধুই অভিশাপ?

0
1803

নিজস্ব প্রতিবেদন (২৬.১০.২০২০) পল্লবী সান্যাল :  করোনা আগমনের পর থেকেই গোটা বিশ্ব জুড়ে শুধুই আতঙ্ক। সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিনিয়ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। তাই করোনাকে অভিশাপ বলা হলেও খুব একটা ভুল বলা হবে না। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কখনও, এই করোনাই আবার জীবকূলের সহায়ক হতে পারে? এই প্রতিবেদন তারই উদাহরণ।

জানা গিয়েছে, প্রাণঘাতী করোনার সৌজন্যেই নাকি গালাপাগোস দ্বীপে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে পেঙ্গুইনের জনবসতি। অথচ এই গালাপাগোস দ্বীপের বাসিন্দা পেঙ্গুইনরা বিলুপ্ত প্রায় জাতির। তারা প্রজাতিতে সবচেয়ে ক্ষুদ্র। উচ্চতা খুব বেশি হলে ৩৫ সেন্টিমিটার। তবে করোনার আশীর্বাদ যে শুধু এই পেঙ্গুইনদের ওপরই বর্তেছে তা নয়। পেঙ্গুইনদের পাশাপাশি করোনার আশীর্বাদে সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে গালাপাগোস দ্বীপের ফাইটলেস কর্মোর‍্যান্টের। হাঁসের সঙ্গে এই পাখি প্রজাতির বেশ মিল রয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। এরা অভিযোজনের পথে ওড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেও জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে আয়ত্ত করে নিয়েছে  মাছ শিকার করে জীবনযাপন করা।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে কর্মোর‍্যান্টের জনবসতি। ২০১৯ সালে যেখানে কর্মোর‍্যান্টরা সখ্যায় ১ হাজার ৯১৪ জন ছিল, সেখানে এ বছর সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২২০-তে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালে পেঙ্গুইনরা যেখানে সংখ্যায় ১ হাজার ৪৫১ জন ছিল, এ বছর সেই সংখ্যা ১ হাজার ৯৪০-এ পৌঁছে গিয়েছে। জানেন কি পেঙ্গুইন ও কর্মোর‍্যান্টদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে করোনার অবদানকে  স্বীকার করে নিয়েছেন গালাপাগোস ন্যাশনাল পার্ক এবং চার্লস ডারউইন ফাউন্ডেশনের প্রাণীবিদরা। তাঁরা মনে করছেন, লকডাউন পিরিয়ডে গালাপাগোস দ্বীপে জনসমাগম কমে যাওয়ায় পাখিদের প্রজননভূমি অনেক বেশি নিরুপদ্রব থেকেছে। বংশ বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া সহায়ক ছিল আবহাওয়ায়। লা নিনার প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উষ্ণ জলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তীব্র বাতাস, শীতল জল উঠে এসেছে উপরে। যে কারণে পেঙ্গুইন ও কর্মোর‍্যান্টদের খাবারের জোগান ছিল যথাযথ। যা বংশ বিস্তারে সহায়তা করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here