কীভাবে বিশ্বে পরিবর্তন আনলেন গান্ধীজি?

0
626
পল্লবী সান্যাল : তিনি প্রথমব্যক্তিও নন, আবার শেষ ব্যক্তিও নন। তবে তিনি হলেন গুজরাতের এমনই এক বাসিন্দা যিনি বিশ্বে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলন্বীর মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ বলে খ্যাত।
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী মহাত্মা গান্ধী নামেও পরিচিত। ১৯৩০-৪০– এ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁর অহিংস নীতিতে ভর করে। সশস্ত্র আন্দোলনের পথে না হেঁটেও যে বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কোনও আন্দোলন সম্ভব, আর তাতে যে সাফল্যও পাওয়া যায় তা প্রমাণ করে দেখয়েছিলেন গান্ধীজি। আর সেকারণেই বিংশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে জাতির এই জনকের নাম। ইতিহাসবিদরা বলছেন, গান্ধীজি প্রমাণ করেছিলেন যে নীতি ও বুদ্ধিমত্তা উভয়ই ব্যবহার করে একজনের সাম্রাজ্য গ্রহণ করার ক্ষমতা রয়েছে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং তিব্বতের দালাই লামাও তাঁর পদ্ধতি স্মরণ করেছিলেন বিশ্ব রাজনীতির প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার জন্য। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে রোগা পাতলা গান্ধিজীর আইনের দুনিয়ায় দাপট কতটা ছিল। যদিও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার একজন আইনজীবী হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। সেই সঙ্গে প রেখেছিলেন রাজনীতির আঙিনায়। বংশোদ্ভূত ভারতীয় ও সেখানকার কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গ ইংরেজদের অত্যাচারের সাক্ষী ছিলেন তিনি। এমনকি ভারতীয়দের অধিকারের লড়াইয়ে পাশে ছলেন তিনি।১৯১৫ সালে ভারতে ফিরে তিনি সমাজে নিম্নবিত্তদের উন্নয়নের জন্য তাঁর ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। অল্পসময়ের মধ্যই গান্ধীজি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন নেতা হয়ে উঠেছিলেন। যে রাজনৈতিক দলটি স্বাধীনতা সমর্থনকারী একটি ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয়দের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের কথা জানতে দলের সঙ্গে ব্যাপক ভ্রমণও করেছিলেন তিনি। ইতিহাসবিদরা বলছেন, এই ভ্রমণকালেই তাঁর ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়েছে জণগণের মাঝে।
তাঁর নিজের জন্মভূমি গুজরাত প্রদেশে চরম দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের কথা জানতে পেরে গান্ধীজি সমগ্র অঞ্চলটি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে উদ্যোগ নিয়েছিলেন নতুন স্কুল স্থাপন ও হাসপাতাল নির্মাণের। যদিও ফলস্বরূপ অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য তাঁকে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের মদতে গ্রেফতার হতে হয়েছিল। কারামুক্ত হয়ে ভারতীয় কৃষকদের উন্নতির জন্য কাজের কথা বলেছিলেন। যখন লোকে তাঁর মহান কীর্তির কথা জানতে পারেন তখন তাঁকে বাবু বা জাতির জনকের বলে আখ্যায়িত করেন।
গান্ধীজি জনপ্রিয় হয়েছিলেন তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও ধার্মিকতার জোরেই। আন্দোলন চলাকালীন যখন তাঁকে আরও কয়েকবার গ্রেফতার করা হয়েছিল কয়েক বছরে, গান্ধীজি শান্তভাবে কারাগারে উপবাস করেছিলেন এই বিশ্বাসে যে তাঁর মৃত্যু হয়তো ভারতীয়দের স্বাধীনতা এনে দিতে পারে। ব্রিটিশরা অত্যন্ত বিব্রত হবে এই ঘটনায়।১৯২০ সালে এই ধারণাই তাঁর রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতে পৌঁছেছিল।
১৯৪০-এর গোঁড়ায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল তাঁর অসহযোগ আন্দোলন। বিলেতি পণ্য বর্জন, তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বর্জনের ডাক দিয়ে দেশবাসীকে স্বনির্ভর হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন গান্ধিজী। ইংরেজদের সঙ্গে অসহযোগিতা করে দেশকে স্বাধীনতা এনে দেওয়াই ছিল এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। তাঁর আন্দোলন একটা আলাদা মাত্রা পেয়েছিল ১৯৩০-এ যখনকয়েক হাজার ভারতীয়কে সঙ্গে নিয়ে লবণ সত্যাগ্রহ বা ডান্ডি অভিযান করেছিলেন মহাত্মা গান্ধি। অবশেষে ১৯৪৭ সালে গান্ধীজির ৭৮ বছর বয়সে ভারত পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে। যদিও বেশ কয়কজন ইতিহাসবিদ এই যুক্তি দেখিয়েছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পতনের সময় স্বাধীনতা অবশ্যম্ভাবী ছিল। তবে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই একমত যে তিনি অহিংস ও সত্যাগ্রহের মাধ্যমে যেভাবে ভারতীয়দের স্বাধীনতচার জন্য লড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন সেটা ছাড়া ভারতের স্বাধীনতা অর্জন বোধহয় সম্ভব ছিল না। 
 
 
 
 
 
 
 
 

.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here