সাধক কমলাকান্তের বাড়ির কালীপুজোর ইতিহাসঃ

0
30

নিজস্ব প্রতিবেদন (দেবস্মিতা ঘোষ)১৪.১১.২০২০

বর্ধমানের বোরহাটে সাধক কমলাকান্তের কালীবাড়ি। দক্ষিণবঙ্গের প্রসিদ্ধ কালীবাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম। ভক্তের সমাধির ওপরেই প্রতিষ্ঠিত তাঁর ভগবানের মূর্তি। নিয়ম মেনেই করা হয় নিত্যপুজো। দীপান্বিতা অমাবস্যায় পুজোর বহর আর জাঁক দুটোই বাড়ে। ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ।

কমলাকান্তর গানে মজেছিলেন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদ। কালীভক্ত মানুষটিকে রাজসভায় জায়গাও দিয়েছিলেন তিনি। ১২০০-১৬০০ বঙ্গাব্দে সেই সভাপণ্ডিতের জন্যই কালীমন্দির তৈরি করেন মহারাজা। ইতিহাস আর মিথ এখানে মিলেমিশে যায়।শোনা যায়,   অমাবস্যায় মহারাজাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন কমলাকান্ত।মাতৃমূর্তির পায়ে বেলকাঁটা ফুঁটিয়ে রক্ত বের করেছিলেন। মৃত্যুর সময় মহারাজ কমলাকান্তকে গঙ্গায় নিয়ে যেতে চান। তিনি যাননি। গান গাইতে গাইতে জীবনত্যাগ করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে সেখানেই মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে গঙ্গাজল। পরে সেই জায়গায় কুয়ো তৈরি করা হয়।

ভক্তদের কাছে মন্দিরের বাঁধানো কুয়োর ওই জল গঙ্গার মতোই পবিত্র। কমলাকান্তের প্রতিষ্ঠিত কালভৈরব ও পঞ্চমুণ্ডীর আসন আজও অক্ষত এখানে। দীপান্বিতা অমাবস্যায় শুরু হয় তিনদিনের উৎসব। প্রথা মেনে কালীপুজোর পর দেওয়া হয় অন্নভোগ।গান, কবিতা আর পদাবলীতে স্মরণ করা হয় সাধক কমলাকান্তকে।

সাধক কমলাকান্ত কালী মাকে মাগুর মাছের ভোগ খাওয়াতেন। সেই রীতি মেনে আজও মাকে কালীপুজোয় জ্যান্ত মাগুরের ভোগ দেওয়া হয়। প্রতি অমাবস্যায় মাকে মাগুর মাছের ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে। মন্দিরের ইতিহাস বলছে ১২১৬ বঙ্গাব্দে সাধক কমলাকান্ত এখানে মায়ের পুজো শুরু করেছিলেন। কালীপুজোর দিন রাতভর দেবীর আরাধনা করা হয়।পরের দিন অন্নকূট। দ্বিতীয়য়া মন্দির প্রাঙ্গণে সাধক কমলাকান্ত দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here