মোহনবাগানের ঐতিহাসিক জয়……

0
36

নিজস্ব প্রতিবেদন (দেবস্মিতা ঘোষ) ১৩.১১.২০২০:

“জেগেছে আজ দেশের ছেলে পথে লোকের ভিড়,

অন্তঃপুরে ফুটল হাসি বঙ্গরূপসীর।

গোল দিয়েছে গোরার গোলে বাঙালির আজ জিত,

আকাশ ছেয়ে উঠছে উধাও উন্মাদনার গীত।

আজকের এই বিজয়বাণী ভুলবে নাকো দেশ,

সাবাশ সাবাশ মোহনবাগান! খেলেছ ভাই বেশ!”

কবি করুণানিধন বন্দ্যোপাধ্যায় মোহনবাগানের জয় নিয়ে এই কবিতা লিখেছিলেন । সেই জয় ছিল মোহনবাগানের ঐতিহাসিক জয়। মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা মাতিয়েছিলেন খালি পায়ে।আমরা জেনে নি সেই ইতিহাস ।

প্রথম টুর্নামেন্টের পরবর্তীকালে মোহনবাগান কোচবিহার কাপ ও ট্রেডস কাপ সহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু জয়লাভে ব্যর্থ হয়।পরবর্তীকালে কলকাতা পৌরসংস্থা শ্যাম স্কোয়ার নামে একটি সরকারি স্কোয়ার উদ্বোধন করলে, এরিয়ানস ও বাগবাজার ক্লাবের সঙ্গে মোহনবাগান এই স্কোয়ারে জায়গা পায়। ১৮৯৫ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত শ্যাম স্কোয়ার ছিল মোহনবাগানের তৃতীয় মাঠ।

১৯০৪ সালে কোচবিহার কাপে অংশ নিয়ে মোহনবাগান প্রথম ট্রফি জেতে। ১৯০৫ সালে তারা আবার এই ট্রফি জিতেছিল। এই বছরই চুঁচুড়ায় আয়োজিত গ্ল্যাডস্টোন কাপে তৎকালীন আইএফএ শিল্ড জয়ী ডালহৌসিকে মোহনবাগান ৬-১ গোলে পরাজিত করে।১৯০৬ সালে মোহনবাগান ট্রেডস কাপ, গ্ল্যাডস্টোন কাপ ও কোচবিহার কাপ এক সঙ্গে জয় করে। ১৯০৭ সালে মোহনবাগান আবার ট্রেডস কাপ জেতে। ১৯০৮ সালেও এই কাপ জিতে পরপর তিন বছর এই কাপ জয়ের রেকর্ড সৃষ্টি করে মোহনবাগান।

১৯১১ সালে মোহনবাগান ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে আিএফএ শিল্ড জয় করে। দলের অধিনায়ক ছিলেন শিবদাস ভাদুড়ী। উল্লেখ্য, এই খেলায় মোহনবাগানের ফুটবলাররা খালি পায়ে খেলেছিল। অন্যদিকে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের ফুটবলারদের যথোপযুক্ত পোশাক ছিল। মোহনবাগানের এই জয়টিকে ভারতের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা আখ্যা দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here