সভ্যতা বাঁচাতে শষ্যভান্ডার মজুত ভারতে

0
1741

শ্রেয়সী বল: মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যদি কোনওদিন সভ্যতা ধ্বংসের মুখে পড়ে,সেই কথা মাথায় রেখে নরওয়ে সরকারের তত্ত্বাবধানে শষ্যভান্ডার গড়ে উঠেছে বরফে ঢাকা পাহাড়ের নীচে। এই শষ্যভান্ডারকে বলা হয় ভালবার্ড গ্লোবাল সিড ভল্ট। তবে এ বিষয়ে পিছিয়ে নেই আমাদের দেশও ।ভারতেরও এরকম একটি শষ্যভান্ডার রয়েছে হিমালয়ের বুকে।

বিশ্বে যদি কখনও মানব সভ্যতার আসন্ন দিন দেখা দেয়, তবে খাবার যোগাবে এই সিড ভল্ট বা শষ্য ভান্ডার।এই ভল্টে কোনও মানুষ সাধারণ প্রবেশ করতে পারেন না। সব ধরণের শষ্যের বীজ রাখা হয়েছে এখানে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭৩০০ ফুট উচ্চতায় লাদাখের চ্যাং লাতে তৈরি হয়েছে ভারতের নিজস্ব শষ্য ভান্ডার। ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অফ হাই অলটিটিউড রিসার্চ ও ন্যাশনাল ব্যুরো অফ প্ল্যান্ট জেনেটিক রিসোর্স ২০১০ সালে এই শষ্যভান্ডার গড়ে তুলেছে। এই ভল্টের তত্বাবধানে রয়েছে ডিআরডিও।বিশ্বের এই ধরণের শষ্যভান্ডার গুলির মধ্যে ভারতের ভল্টটির আকার দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রায় ৫০০০ প্রজাতির শষ্য সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। বিভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের ও বিভিন্ন আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা শষ্যের বীজ এখানে মজুত করা হয়েছে।এগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যাপ্রিকট, গাজর, কপি,আলু, টোমাটো, বার্লি, ধান, গম প্রভৃতি।

উল্লেখযোগ্য ভাবে এই বীজ ভান্ডার গড়ে তোলার ভাবনা প্রথম আসে পঙ্গপালের হানার পর। বার্লি ক্ষেতের প্রভূত ক্ষতি করেছিল পঙ্গপাল। তারপরেই এই ধরণের ভল্ট গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়। চ্যাং লার পাসে বছরের ৯ মাসই বরফ থাকে। বাকি দিনগুলিতেও বরফ গলে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ফলে বীজ সুরক্ষিত থাকে এখানে। ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অফ হাই অলটিটিউড রিসার্চের রিপোর্ট বলছে যদি তাপমাত্রা ও উচ্চতা একই রাখা হয়, তবে বীজের সুরক্ষিত থাকার মেয়াদ কয়েকশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। জানানো হয়েছে পেঁয়াজের বীজ সুরক্ষিত থাকতে পারে ৪১৩ বছর পর্যন্ত, ধানের ১১০০ বছর পর্যন্ত, গমের ১৬০০ বছর পর্যন্ত, বার্লির ২০০০ পর্যন্ত ও মটরের ৯০০০ বছর পর্যন্ত। ভবিষ্যতের খাদ্যের সঙ্কটের কথা ভেবে ভারতের মত দেশগুলির এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে সকলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here