দুর্গা পুজোয় এই রাজবাড়িতে পূজিতা হন দেবী পটেশ্বরী!

0
1152

পল্লবী সান্যাল : তিলোত্তমা এই মহানগরী থেকে বেরিয়ে যদি জেলার সেরা পুজোগুলির সাক্ষী থাকতে চান তাহলে যেতে হবে বর্ধমানের রাজবাড়িতে। ৩০০ বছরের পুরনো এই রাজবাড়ির চকচকে ঝকঝকে ভাব খানিক মলিন হয়ে এলেও প্রতি কোণায় ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। বর্ধমানের রাজবাড়িতে মা দুর্গা পুজো পেলেও চল নেই প্রতিমা পুজোর। পটে আঁকা মা দুর্গার ছবিকেই পুজো করা হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। বর্ধমান রাজবাড়ির দুর্গা পুজোর এটাই বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

রাজা মহাতাবচাঁদের হাত ধরে রাজবাড়িতে দুর্গা পুজোর শুভারম্ভ ঘটেছিল। যেহেতু রাজবাড়ির কুলদেবী মা চণ্ডী ও  কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ তিনি নিত্য পুজিতা হতেন। ফলে অন্য কোনও দেবী প্রতিমা পুজো করা যাবে না বলে রাজাকে বিধান দিয়েছিলেন রাজ পুরোহিত। তবে তিনি এও বলেছিলেন, প্রতিমা না হলেও পটে আঁকা মা দুর্গার ছবি পুজো করা যেত পারে। সেই থেকেই বর্ধমান রাজবাড়িতে পুজো পেয়ে আসছেন মা দুর্গা। পটে আঁকা ছবির পুজো করা হয় বলে দেবীর নাম হয়েছে পটেশ্বরী। বছর আসে যায় কিন্তু সেই পট বদল করা হয় না। ১২ বছর অন্তর পটের অন্তরাগ হয়। সেই সময় মোট ৫২ রকম ভোগের আয়োজন করা হতো। যদিও সেই সংখ্য়া কমে বর্তমানে ৩-এ এসে ঠেকেছে। করোনার জেরে এবছর রাজবাড়ির পুজো হবে বর্তমান রাজা রানিকে ছাড়া। দর্শনার্থীদের প্রবেশেও জারি হয়ছে নিষেধাজ্ঞা। বর্ধামান রাজবাড়ির দুর্গা পুজো মোট ৯ দিনের। আগে একশো ঢাকের শোভাযাত্রা করে মহাসমারোহে কৃষ্ণসায়র থেকে ঘট আনা হতো। এখন ঘট ভরা হয় গঙ্গাজলে। আগে সুপারি বলি হলেও এখন তা বন্ধ। তবে রাজকুমার প্রতাপচাঁদ মহাতাব সস্ত্রীক আসেন পুজোর দিনগুলিতে। নিজে পুজো করেন তিনি। এখনও নবমীতে কুমারী পুজো হয়। মন্দির চত্ত্বরে গুজরাতি সমাজের নবরাত্রি উৎসব হয়। ৯ রাত ধরে চলে ডান্ডিয়া নৃত্য। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে এই উৎসব না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

চোরবাগান চট্টোপাধ্যায় বাড়ির নিরামিষ চিংড়ির মালাইকারি

বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর এলাকায় অবস্থিত রাজবাড়িটি। একবার বন্যার সময়ে দামোদর নদের জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চাষের জমি ও ফসল। সেই সলময় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে মহারাজ তেজচাঁদ শহরের উঁচু কোনও জায়গায় রাজবাড়ি তৈর করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। মহারাজের দত্তকপুত্র রাজা মহাতাবচাঁদ পিতার সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করেন। ১৮৫১-তে রাজবাড়ি নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল। বংশ পরম্পরায় রাজপরিবারের সদস্য হয়ে গোটা শহরে রাজত্ব করে বেরান মহাতাবচাঁদ সহ আফতাবচাঁদ, বিজয়চাঁদজ ও উদয়চাঁদ।

১০১ বছর পরে ১৯৫২-তে ততকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু দেশে জমিদারি উচ্ছেদ আইন আনলে বেশ কিছু রাজতনত্র সরকারের হাত চলে যায়। এরপর ১৯৫৩ সালে বর্ধমান থেকে বেনারসের চলে যান মহারাজ উদয়চাঁদ। কখনও আর ফিরে যাননি রাজবাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিধানচন্দ্র রায় রাজবাড়িটিকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। সেই মতো ১৯৫৮-তে রাজপরিবারের সদস্যরা রাজবাড়িকে রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে রাজ্য হেরিটেজ কমিশন বর্ধমান রাজবাড়িকে হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের তকমা দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here