গান্ধীজির বিবাহিত জীবন থেকে ব্রক্ষ্মচর্য

0
324

পল্লবী সান্যাল : ১৮৮৩ –তে বয়স যখন মাত্র ১৩, বাবা মায়র পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে সংসারী হন মহাত্মা গান্ধী। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল কস্তুরবা মাখাঞ্জী। এরপর ১৮৮৮-তে বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় জন্মগরহণ করেন তাঁদের প্রথম পুত্র সন্তান হরিলাল গান্ধী।  এর ঠিক চার বছরের মাথায় ১৮৯২-তে দ্বিতীয় পুত্র সন্তানের জন্ম দেন কস্তুরবা। তাঁর নাম ছিল বনিলাল গান্ধী। এরপর ১৮৯৭  সালে জন্ম গ্রহণ করেন মহাত্মা ও কস্তুরবার তৃতীয়সন্তান রামদাস গান্ধী ও ১৯০০ সালে পৃথিবার আলো দেখেন তাঁদের শেষ ও চতুর্থ সন্তান দেবদাস গান্ধী। মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা। গান্ধীজির বয়স তখন বছর ১৬। সেই সময় বাবার সঙ্গেই দিন কাটতো তাঁর। একরাতে গান্ধীজির কাকা এসে তাঁকে বিশ্রাম নেবার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি শোবার ঘরে ফিরে যান এবং কামনার বশবর্তী হয়ে কস্তুরবাদেবীর সঙ্গে প্রণয়ে লিপ্ত হন। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তার পিতার মৃত্যুসংবাদ আসে। যেকারণে তিনি ঘটনাটিকে দ্বিগুণ লজ্জা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই ঘটনাটি গান্ধীকে ৩৬ বছর বয়সে বিবাহিত থাকা অবস্থায় একজন ব্রহ্মচারী হতে বাধ্য করেছিল। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্রহ্মচর্যের দর্শন তাঁকে ব্যাপকভাবে প্ররোচিত করে, যা আদর্শগত ও বাস্তবগত পবিত্রতার চর্চা করে। গান্ধীজি ব্রহ্মচর্যকে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ এবং আত্মোপলব্ধির পন্থা হিসেবে দেখতেন।

বাবার মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকতে না পারার অনুশোচনা ও পাপবোধে জর্জরিত হন গান্ধীজি।তিনি মনে করতে শুরু করেন তাঁর ‘কামুক প্রেম’-ই পিতার মৃত্যুর কারণ। তবে তখনও পর্যন্ত তাঁর মনে যৌনতার প্রতি নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়নি।

১৯০৬ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি ব্রহ্মচর্যের শপথ নেন। বেছে নেন আধ্যাত্মিক জীবনযাপন। যে জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল প্রকার ভোগ বিলাসিতা ও যৌনতা থেকে দূরে থাকা। তবে যৌনতা থেকে দূরে থাকতে তাকে কিছু জটিলতায় পরতে হয়। এর ফলে তিনি তৈরি করেন অদ্ভুত কিছু নিয়ম কানুন যার সাহায্যে সারাক্ষণ যৌনতার মধ্যে থেকেও নিজেকে সংযত রাখা যায়। সেকারণে তিনি আশ্রম স্থাপন করেন।যেখানে তিনি যৌনতা নিয়ে প্রথম নিরীক্ষা শুরু করেন।

সংযম ক্ষমতা লাভ করার জন্য আশ্রমে বালক বালিকাদের একসাথে ঘুমাতে ও স্নান করতে দেওয়া হতো। কিন্তু কোনও যৌন আকাঙ্ক্ষাকে একেবারেই প্রশ্রয় দেয়া হত না। এর অন্যথা হলেই ভোগ করতে হতো শাস্তি। তিনি স্বামী ও স্ত্রীকে আলাদা থাকার পরামর্শ দিতেন। তাঁর পরামর্শ ছিল কোনও স্বামী যদি যৌনাকাঙ্ক্ষা অনুভব করে তবে তাকে ঠান্জা জলে স্নান করে নিতে হবে। কিন্তু নিজের বেলায় খাটতো অন্য নিয়ম। কম বয়সী নারীদের সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমাতেন এবং স্নান করতেন। যদিও কখনও শ্লীলতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়নি বলেই দাবি করতেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পাশে অনেক নারীদেরই ভিড় জমতো। আশ্রমের নিয়ম অনুসারে নারীরা তাদের স্বামীর সাথে শোয়ার অনুমতি পেতেন না। গান্ধীজির সাথে তাদের ঘুমাতে হত।

এরপর ১৯৪৭ সালে তার আধ্যাত্মিক সংযম পরীক্ষার জন্য আরও আকর্ষণীয় ও কমবয়সী নারীর প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাঁর ১৮ বছর বয়সী নাতনি মনুও তার সাথে ঘুমাতেন। গান্ধী মনুকে বলেন, ‘আমাদের শুদ্ধতার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি আমরা সবথেকে শুদ্ধরূপে নিজেদের উত্‍সর্গ করতে পারি।এবং আমাদের দুজনের উচিত নগ্ন হয়ে ঘুমানো।’ এরপর তার সাথে যুক্ত হন কানু গান্ধীর স্ত্রী আভা। মনু ও আভা দু’জন কে নিয়েই ঘুমাতেন তিনি। তাঁর মতে, একজন ব্রহ্মচারীর মনে কখনো কামনার উদ্রেক হয় না।যিনি যৌন উত্তেজনা ছাড়াই সুন্দরী নগ্ন নারীদের সাথে শুয়ে থাকতে পারবেন তিনি আরো বেশি ইশ্বরের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।তাঁর এহেন ধারণা পরবর্তীকালে বহু সমালোচনা ও বিতর্কের জনম দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here