২০-তে ১০০!

0
38

পল্লবী সান্যাল : ২০২০-তে খারাপের মাঝেও ভালো খবর ফুটবল প্রেমীদের জন্য। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষ। বিশেষ এই বছরে চলতি মাসেই ডার্বি দিয়ে গোয়ায় আইএসএলের যাত্রা শুরু করতে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন ফুটবল ক্লাবটি।বর্তমানে ক্রীড়া বিভাগের মালিকানা শ্রী সিমেন্ট ইস্টবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের হাতে যার ২৪ শতাংশ রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের হাতে।

লাল – হলুদ তাঁবুর জন্মের ইতিহাস জড়িয়ে ১৯২০ সালে কোচবিহার কাপ ফাইনালে জোড়াবাগান ক্লাবের হারের সঙ্গে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিরঅধিকারী হয়েছিল আরেক ঐতহ্যশালী ক্লাব মোহন বাগান। জোড়াবাগানের পরাজয়ের জন্য ক্লাব কর্তারা দায়ী করলেন দলের দুই বাঙাল ফুটবলার শৈলেশ বসু ও নসা সেনকে। সেই রাগে তত্কালীন জোড়াবাগানের ভাইস প্রেসিডেন্টে সুরেশ চৌধুরীর পদত্যাগের পর তাঁরই হাত ধরে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল নতুন এক ক্লাব যার নাম ইস্টবেঙ্গল।

জন্মলগ্নের প্রথম দিকে ক্লাবটির সমর্থক সংখ্যা হাতেগোনা থাকলেও দেশভাগের পর থেকে তা ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। দেশভাগের সময় ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসা মানুষগুলোর কাছে ক্রমে গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে ইস্টবেঙ্গলের। তারপর বহু উথ্থান পতনের সাক্ষী থেকেছে ক্লাবটি। পেরিয়েছে দুর্গম পথ। বর্তমানে ইস্টবেঙ্গল এক আবেগের নাম।

আত্মপ্রকাশের পর থেকেই অবাক করেছে ইস্টবেঙ্গলের পারফর্ম্যান্স। ১৯২১-এর মধ্যেই লাল-হলুদ শিবিরে জায়গা করে নেয় ৭টি ট্রফি। শুরুর দিকে হারকিউলিস কাপ ঘরে আনেন ইস্টবেঙ্গলের প্লেয়াররা। এরপর সচিন শিল্ড থেকে শুরু করে একে একে কোচবিহার কাপ, আইএফএ শিল্ড, গিরিজা শিল্ড, ট্রেডস কাপ, আশিয়ান কাপ, জাতীয় লিগ জয়। একের পর এক ট্রফি শোভা পেয়েছে ময়দানের লাল-হলুদ রঙা তাঁবুতে।

আরও দেখুন

১৯৯৮-তে ক্লবের অর্ধেকমালিকানা ইউনাইটেড ব্রিউয়ারিস গ্রুপে হাতে যায়। এরপর বিজয়বিজয় কিংফিশারের সঙ্গে চুক্তি হয়। তারপরই ক্লাবের নাম হয় কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। তবে তারও আগে ১৯৭৫-এ মরসুমের আইলিগে ইস্টবঙ্গলের কাছে ৫-০ গোলে পরাজিত হয় মোহন বাগান। ম্যাচ হেরে মুখ চুন ক্লাব কর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়দের।

বছর পাঁচেক পরে ১৯৮০-তে ঘটল আরও এক উললেখযোগ্য ঘটনা। সেদিনও মুখোমুখি হয়েছিল ভারতের দুই প্রাচীন ঐতিহ্যশালী ক্লাব দুটি, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। সেদিন ম্যাচ হয়েছল ইডেন গার্ডনসে।ম্যাচ দেখতে এসে জনজোয়ার কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৬ জন ফুটবলপ্রেমীর।

আরও দেখুন

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, দুই ক্লাবের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ৯৫ বছরের পুরনো। একে অপের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলে ১৯২৫-এ। মোহনবাগানকে ১-০ গোলে হারায় ইস্টবেঙ্গল। জয়সূচক গোলটি করেন নেপাল চক্রবর্তী। দেখতে দেখতে ১০০ বছরে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ৩৩৮ টি ডার্বি ম্যাচ খেলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। এর মধ্যে লাল-হলুদ ক্লাবটির ঝুলিতে রয়েছে ১২৩টি জেতা ম্যাচ। ড্র হয়েছে ১১২ টি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here