বিশ্বকর্মা পূজোয় ঘুড়ির প্যাঁচ :

0
193

নিজস্ব প্রতিবেদন(মৌটুসি রায়)১৫/৯/২০: ‘আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক মাটিতে অবজ্ঞা’… সুমন চট্টোপাধ্যায়ের এই গান তখন সবার ঠোঁটে। যে গান প্রথম দিনবদলের পালার গল্প শুনিয়েছিল। গানে বয়স বারো কি তের-র সেই ছেলে একবার কোনোমতে আকাশে আলতো চোখ বুলিয়েই নামিয়ে নিয়েছিল যেন নিষিদ্ধ জিনিস দেখে ফেলার আতঙ্ক নিয়ে। কারণ, ওই বয়সেই সে সংসারের অভাবের ফুঁটো ঢাকতে রিক্সা চালাচ্ছে। এদিকে আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক ছেলেটাকে ডাকছে।


কবে আমূল বদলে গেল সময়? কবেই বা সমাজে চালু হল শিশুশ্রম? সমাজ খবর রাখে না। কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর একসপ্তাহ আগে থেকে রকমারি, নানা রঙের ঘুড়িতে আকাশ ঢেকে ফেলার রেওয়াজ একটু একটু করে ফিকে হতে হতে সত্যিই ম্লান। এই নিয়ে কথা হচ্ছিল এন্টালির ঘুড়ির দোকানের মালিক কৈলাশ সাহুর সঙ্গে। ৭০ বছরের দোকান কৈলাশবাবুর। আপশোসের সঙ্গে জানালেন, আগে কী রমরমা ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর। পুজোর প্রায় একসপ্তাহ আগে থেকে বিক্রিবাটা শুরু হয়ে যেত। আস্তে আস্তে কমতে কমতে সেই বিক্রি ৮০ শতাংশের নীচে নেমে গেছে।

কী কী ঘুড়ি বিক্রি হত তখন বা এখনও হয়? কৈলাশবাবু জানালেন, মোমবাতি, বক্কা, পেটকাটা, চাঁদিয়াল, মুখপোড়া— কত রকমের নাম ছিল সেসব ঘুড়ির। এখনও সেই ঘুড়িই আছে। তবে খুব সমঝদার ছাড়া এই ঘুড়িগুলোর খোঁজ করে না কেউ। এবং এই ঘুড়ি ওড়ানোর চল বেশি ছিল উত্তর কলকাতায়। তখন আড্ডা চলত পাড়ার মোড়ে মোড়ে। এখন তো পড়ার চাপে ছোটরা সারাক্ষণ ব্যস্ত। খেলাধুলোও কেউ করে না। আর মোবাইল এসে যাওয়ার পর থেকে সবাই তাতেই বিনোদন খোঁজে। ফলে, ঘুড়ির খোঁজ আর কেউ করে না। কী ধরনের ঘুড়ি এখন চায় সবাই, বড় না ছোট? কৈলাশবাবু জানালেন, নানা সাইজ আছে–২ সেল, দেড় সেল, এক সেল, হাফ সেলের। সবচেয়ে বড়ে ঘুড়ি ২ সেলের। সাইজ যত কমে মাপ তত ছোট হয়। বিক্রি বেশি দেড় সেলের।
এ করোনা কালেও মানুষের মন কিন্তু পেতে চাইছে মুক্তির স্বাদ লাল নীল ঘুড়ির সুতোয় টাণ দিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here