জানেন, কী কারণে ন্যূনতম পোশাক পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী?

0
318
পল্লবী সান্যাল : মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাঁর খাটো ধুতি পরিহিত, চোখে গোল ফ্রেমের চশমা ও হাতে লাঠির ছবিটি। যদিও প্রথম জীবনে আইন নিয়ে কাজ করার সময় সাহেবদের মতোই পোশাক আশাক পরতেন তিনি। অসহযোগ আন্দোলনের সময় থেকে বদল আসে তাঁর পোশাক পরিচ্ছদে। যা দেখে সেই সময়কার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ক্ষেপে গিয়ে তাঁকে 'অর্ধনগ্ন ফকির' বলেছিলেন। 
৯৫ বছর আগে ১৯২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, গান্ধীজি পোশাক পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মাদুরাই যাওয়ার পথে। যখন তিনি দেশের তৃণমূল স্তরের মনুষদের সঙ্গে কাজ করবেন বলে মনোস্থির করেন তখনই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। তাঁর সহজ সাদামাটা পোশাক দেখে যাতে মানুষ তাঁকে চিহ্নিত করতে পারে সেকরণেই গুজরাতি পোশাক ছেড়ে তাঁর সাধারণ ধুতি এবং শাল পরা। দরিদ্র জনগণের মাঝে নিজেকে চিহ্নিত করার জন্য গান্ধীজির পোশাক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কিন্তু ক্ষণিকের ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা - ভাবনা করেছেন তিনি। দুটি অনুষ্টঠানে তিনি সাধারণ মানুষের পোশাক পরার কথা ভেবেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাদুরাইতে হ তিনি একজন দরিদ্র কৃষকের পোশাক গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। পরে একসময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে মাদুরাই তাঁকে পোশাক পরিবর্তন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয় শক্তি জুগিয়েছিল। যদিও এর আগে দুবার ধুতি ও শাল গ্রহণ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। ওই সময়ে তিনি মাদুরাইয়ের পশ্চিম মাসি স্ট্রিটে একজন অনুগামীর বাড়ির উপরের অংশে থাকছিলেন। এটি ছিল সেই শহরে তাঁর দ্বিতীয় সফর; পরে, তিনি শহরটি তিনবার পরিদর্শন করেছিলেন। একদিন সকালে তিনি রামান্দ (রমনাথপুরম) এবং তিরুনেলভেলি থেকে বেরনোর সময় তিনি একটি নতুন অবতারে উপস্থিত হয়ে বলেন, একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যদি কেউ এটিকে এই নামে ডাকতে পারে তো! বিস্ময়করভাবে সেই বাড়িটি এখন খাদি এম্পোরিয়ামের দখলে! মানুষের শুভেচ্ছা বার্তার জন্য তিনি রম মাদুরাইয়ে যাওয়ার পথে তাঁর যাত্রা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন।যে স্থানে নতুন অবতারে প্রথম দেখা গিয়েছিল গান্ধীজিকে। সেই উন্মুক্ত জায়গাটি গান্ধী পোট্টাল নামে খ্যাত। মাদুরাইয়ের কামারাজার রোডের অলঙ্কার থিয়েটার জুড়ে রয়েছে গান্ধীজির একটি মূর্তি। কেন জানা নেই, গান্ধীজি চাইতেন না যে সবাই তাঁর সরল পোশাকের স্টাইলটি অনুসরণ করুক। এ নিয়ে নবজীবন পত্রিকায় তিনি ল্খেছিলেন, “আমি চাই না আমার সহকর্মী বা পাঠকরা পোশাকের ধরণ গ্রহণ করুন। তবে আমি চাই যে তারা বিদেশি কাপড় বর্জন করে দেশীয় পোশাক গরহণ করুক। খাদির কাপড়  তৈরিতে উৎসাহ দেখাক। আমি আশা করি তারা বুঝতে পারবে যে স্বদেশীর মূল্য। ”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here