দীপাবলির পৌরাণিক প্রেক্ষাপট

0
42

পল্লবী সান্যাল : দুর্গার পুজোর মতো কালীপুজোর পর দীপাবলি উৎসব নিয়েও নানা কাহিনী বর্ণিত রয়েছে পুরাণে। পাশাপাশি দীপাবলির সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে রামায়ণ মহাভারতের মতো প্রাচীন ভারতের দুই কাব্যগ্রন্থের।

রামায়ণের কাহিনীতে উল্লেখ রয়েছে যে শ্রীরামচন্দ্র তাঁর পিতা অর্থাৎ অযোধ্যার রাজা দশরথের আদেশ মেনে ১৪ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিলেন। এই সফরে তাঁর দুই সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণ। একসময় লঙ্কারাজ রাবণ সীতাকে হরণ করে নিয়ে যান নিজের রাজ্যে। এরপর স্ত্রীকে মুক্ত করতে রাবণের মুখোমুখি হন শ্রীরামচন্দ্র। শেষ পর্যন্ত রাবণকে বধ করে শ্রীরামচন্দ্র তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে অযোধ্যায় যেদিন ফিরে আসেন সেদিন রাতেই খুশিতে অযোধ্যাবাসী রাজ্যের সর্বত্র প্রদীপ জ্বালিয়ে উদযাপন করেন। সেই সঙ্গে ফাটান নানা রকমের বাজিও। শ্রীরামচন্দ্রের ফেরার দিন ছিল অমাবস্যা। আঁধার ঘোচাতে আলোর রোশানাইতে সেজে উঠেছিল গোটা অযোধ্যা।

মহাভারত পড়ে জানা যায়, ভূদেবী ও বরাহের পুত্র নরকাসুর ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী। স্বর্গ ও মর্ত্য উভয় নিজের দখলে নিয়ে অত্যাচার শুরু করেন তিনি। দেব দানব গন্ধর্ব নির্বিশেষে ১৬ হাজার সুন্দরী রমণীকে জোর করে হরণকরে পাহাড়ের ওপরে এক বন্দিশালায় আটক করে রাখেন। এমনকি দেবরাজ ইন্দ্রকে য়পদ্ধে হারিয়ে দেবমাতা অদিতির কর্ণভূষণ লুঠ করে নরকাসুর। এহেন পরিস্থিতিতে নরকাসুরের যাবতীয় কুকীর্তি সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রাগজ্যোতিষপুরে যুদ্ধের জন্য যাত্রা করেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই যুদ্ধে সুদর্শন চক্রের দ্বারা নরকাসুরের মুণ্ডচ্ছেদ করে বন্দি রমনীদের মুক্ত করেন ওই বন্দিশালা থেকে। সেই আনন্দে প্রাগজ্যোতিষপুর থেকে দ্বারকার পূর্ব ও পশ্চিমের প্রায় ২ হাজার মাইল বিস্তৃত এলাকা আলোক্ত হয়েছিল প্রদীপের আলোয়।

হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পুরাণে আবার কথিত রয়েছে যে দীপাবলির দিনে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দেবী লক্ষ্মী ও বিষ্ণুদেব। সেকারণেই দীপাবলির মা লক্ষ্মীর আরাধনা করে থাকেন অনেকে।

হিন্দু ধর্মে দীপাবলির উদ্ভব সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা গেল। এবার আসা যাক অন্যান্য ধর্মে দিপাবলীর গুরুত্ব প্রসঙ্গে।

শিখ ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন দিপাবলীতে কারামুক্ত হন শিখ ধর্মগুরু হরগোবিন্দ। যিনি স্বেচ্ছায় বছর খানেক বন্দি ছিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কারাগারে। আশ্চর্যজনকভাব মুক্তি পাওয়ার পরেও তিনি কারাগার ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন তিনি। সেই সঙ্গে এই শর্ত রাখেন যে তাঁর সঙ্গে বন্দি থাকা ৫২ জন হিন্দু রাজাকেও মুক্তি দিতে হবে। সম্রাট জাহাঙ্গির সেই শর্ত মেনে নেওয়ায় দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকে শিখদের কাছে। বন্দি ছোড় দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করে সাড়ম্বরে উদযাপন করেন বিশেষ দিনটিকে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণের। তাঁদের মতে, বুদ্ধদেব নির্বাণ লাভের লক্ষ্যে দিপাবলীতেই গৃহত্যাগ করেছিলেন। তাই এদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে বুদ্ধদবকে স্মরণ করা হয়।

 জৈন ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, এই বিশেষ দিনেই নির্বাণ লাভ করেছিলেন মহাবীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here