করোনার কোপ মা দুর্গার আহারে! ব্যতিক্রমী পুজোর সাক্ষী থাকতে চলেছে কোন রাজবাড়ি?

0
1201

পল্লবী সান্যাল : ইংরেজ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চিফ অফিসার রবার্ট ক্লাইভের হাত ধরে দুর্গা পুজোর শুভ সূচনা হয়েছিল শোভাবাজার রাজবাড়িতে। উত্তর কলকাতার রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটে অবস্থিত এই রাজবাড়ির নির্মাতা রাজা নবকৃষ্ণ দেব। ২০২০-তে ঐতিহ্যপূর্ণ, ইসিহাস আচ্ছাদিত এই বাড়ির বয়স হল ২৬৩ বছর। সেই ১৭৫৭ সাল থেকে পলাশীর যুদ্ধের পরবর্তীকালীন সময় থেকেই শোভাবাজার রাজবাড়িতে পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা। তবে এবছর করোনার কোপ পড়তে চলেছে বহু প্রাচীন এই পুজোর রীতি থেকে মা দুর্গার আহারে।

বনেদি বাড়ির পুজো মানেই এক মিলন ক্ষেত্র। ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে যেখানে ভিড় করেন নানা প্রান্তের মানুষ। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না অন্যান্যবারের তুলনায় এবছরটা ব্যতিক্রমী। কোভিড প্রোটোকল মেনে পুজো হলেও বদলাচ্ছে বহু প্রাচীন এই পুজোর বেশ কিছুর রীতি।

দত্ত বাড়ির লেডিকেনি

উপচে পড়া ভিড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ফলে এবছর শোভাবাজার রাজবাড়ির অন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে দর্শনার্থীদের। ঠাকুর দালানে উপস্থিত থাকতে পারবেন শুধু পরিবারের সদস্যরাই। সেক্ষেত্রেও জারি করা হয়েছে নিয়ম। পরিবারের সদস্যদের কাছে থাকতে হবে  উপযুক্ত পরিচয়পত্র। তবেই তাঁরা পুজোর সাক্ষী থাকতে পারবেন।

ঘরের মেয়ে উমা ও তাঁর চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে নিয়ে আসার জন্য কমপক্ষে ৩২ জন কুলির প্রয়োজন। করোনা সতর্কতায় প্রতিমার উচ্চতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজবাড়ির সদস্যরা। সেই সঙ্গে বন্ধ থাকছে ঢাকিদের প্রদর্শনীও। ঢাকের আওয়াজ ছাড়া দুর্গা পুজো সম্পূর্ণ হয় না। এদিকে সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েই ঢাকিদের জন্য দরজা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তা বলে কি ঢাক বাজবে না ? ঢাকে কাঠি না পড়লেও ঢাক ও সানাইয়ের সুর বাজবে ক্যাসটে। ফলে দুধের স্বাদ কিছুটা হলেও মিটবে ঘোলে।

কেমন ভাবে রাঁধবেন স্বাদের রাজা রাজেশ্বারী?

প্রতিবারই দেবী দুর্গার জন্য প্রায় ২৫ ধরণের মিষ্টি তৈরি করা করানো হয় শোভাবাজার রাজবাড়িতে। সংক্রমণের আশঙ্কায় এবছর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ময়রা ও রান্নার ঠাকুরের সংখ্যা।

শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জন মানেই এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। মাঝগঙ্গায় নৌকো করে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমা। তারপর বাসান দেওয়া হয়। কিন্তু এবছর এসব কিছুই হচ্ছে না। ঘাটে ট্রলির মাধ্যমে প্রতমা নিরঞ্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

করোনার প্রকপে বুলিন শিল্পীরা……

পুজোর দিনগুলিতে সকলে হইচই করলেও ছুটি নেই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের। বরং কাজ আরও বাড়ে। পুজো পরিক্রমা থেকে প্যান্ডেলগুলির হালহকিকত সবটাই তুলে ধরতে হয় তাঁদের। যারা ভিড় পছন্দ করেন না বাড়িতে বসেই টিভিতে ঠাকুর দেখতে পছন্দ করেন তাঁদের জন্য নিজেদের আনন্দ দূরে সরিয়ে রেখে নিরলস পরিশ্রম করে চলেন সাংবাদিকরা। শোভাবাজার রাজবাড়িতে সংবাদ মাধ্য়মের প্রতনিধিদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও জারি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।যে কোনও সংবাদমাধ্যমের দু’জন কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে পুজো কভারেজের জন্য। তার জন্য রাজবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে মিডিয়ার আই কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। ঠাকুর দালানে মিডিয়ার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here