বরফের রক্তক্ষরণ!

0
2107

শ্রেয়সী বল: এ যেন গভীর ক্ষত। প্রাণহীনের এরকম রক্তাক্ত পরিণতি সত্যিই বিষ্ময়ের।শেষমেষ বরফ থেকে বেরিয়ে আসছে টাটকা রক্ত!ররফের মধ্যে লাল লাল ছোপ দেখে যে কেউই অবাক হতে বাধ্য। এটা কোনও যান্ত্রিকতার কারসাজি নয় । এই ভয়ঙ্কর ছবি শেয়ার করেছেন খোদ ইউক্রেনের বিজ্ঞানীরা। ইউক্রেনের শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রকের ফেসবুক পেজে সেই ছবি শেয়ার করা হয়েছে।

আন্টার্কটিকার উত্তরের অংশে দেখা গিয়েছে এমন বরফ, যাকে ‘ব্লাড স্নো’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ধরনের বরফ দেখা যায় আন্টার্কটিকার গ্যালিন্ডেজ আইল্যান্ডে। তবে এটি নাকি এক প্রাকৃতিক কারণেই হয়েছে। ‘ক্ল্যামাইডোমোনাস নিভালিস’ নামে এক ধরনের শ্যাওলার জন্যই এই লাল রঙের সৃষ্টি হয়েছে বরফে। জানা গিয়েছে, প্রবল ঠাণ্ডাতেও বেঁচে থাকতে পারে এই শ্যাওলা। তাই মূলত মেরু অঞ্চলে ও পার্বত্য অঞ্চলে এই শ্যাওলার উপস্থিতি নজরে আসে। শ্যাওলার ক্লোরোপ্লাস্টে রয়েছে ‘ক্যারোটিনয়েড’। আর তার জেরেই এই লাল রঙ হয়।

ঠিক যে ‘ক্যারোটিনয়েড’-এর জন্য কুমড়ো বা গাজরের রঙ কমলা হয়।এই ধরনের শ্যাওলা যখন প্রচুর পরিমাণে সূর্যের আলো পায়, তখন এই ‘ক্যারোটিনয়েড’ তৈরি হয়। আন্টার্কটীকায় যখন গ্রীস্মকাল থাকে তখনই শ্যাওলা গুলো লাল হয়ে যায়। তবে এই লাল রঙের একটা খারাপ দিক আছে। এই ধরনের শ্যাওলা বেশি থাকলে বরফ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করতে পারে না। ফলে দ্রুত বরফ গলে যায়। অর্থাৎ উষ্ণায়ণের পথ প্রশস্ত করে এই লাল রঙের শ্যাওলা।এই ধরনের শ্যাওলা দেখা যায় মেরু অঞ্চলেও। এটা শুধু দেখতেই লাল নয়, এর গন্ধ নাকি অবিকল তরমুজের মত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here