সুস্থ শরীর ও উজ্জল ত্বকের জন্যে স্নানের গুরুত্ব…

0
360

সুস্থ শরীর ও উজ্জল ত্বকের জন্যে স্নানের গুরুত্ব…

সংবাদটিভি ওয়েবপেজ…

সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ত্বক ধরে রাখার জন্য রোজ স্নান করা অপরিহার্য। স্নান নেয়ার ফলে স্ট্রেসও অনেকটা কমে যায়। তবে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলেই হয় না, স্নানের কিছু নিয়ম রয়েছে। সঠিক নিয়মে স্নান করলে শরীরের রক্ত চলাচল বাড়ে, স্ট্রেস কমে এবং চুল ও ত্বক পরিচ্ছন্ন থাকে। প্রথমেই জেনে নেয়া যাক স্নানের উপকারিতাগুলো সম্পর্কে —

যারা বাথটাবে স্নান করেন, তাদের শরীরে রক্ত চলাচল খুব ভালোভাবে হয়। যাদের উচ্চরক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বাথটাবের জলে গা ভিজিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকা থেরাপির কাজ করে। স্ট্রেস কমাতে শীতকালে উষ্ণ জলে এবং গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলে স্নান করা উচিত।

মাংসপেশির ক্লান্তি দূর করতে উষ্ণ জলে স্নান করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পেশির নমনীয়তা ও ইলাস্টিসিটি ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের স্নান উপকারী। অন্যদিকে ঠাণ্ডা জলে স্নান বিষণ্নতাবোধ দূর করতে সাহায্য করে। ঠাণ্ডা জলে স্নান করলে স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপ্ত হয়, ফলে রক্তে বিটা এন্ডোরফিন এবং নর অ্যাড্রিনালিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা হতাশা কমায়।

যারা একটু সময় নিয়ে স্নান করতে ভালোবাসেন তারা জেনে রাখুন, সময় নিয়ে স্নান করার ফলে স্ট্রেস ও টেনশন কমে। তাছাড়া যারা নিদ্রাহীনতা সমস্যায় ভোগেন, তারা রাতে ঘুমানোর আগে ঠাণ্ডা জলে স্নান করে নিলে আরাম পাবেন।

ত্বকে যারা সবসময় প্রসাধনী যেমন সুগন্ধি, পাউডার, ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন, তাদের নিয়মিত স্নান করা উচিত। স্নান ত্বক থেকে টক্সিনকে দূর করতে সহায়তা করে।

কেমন জলে স্নান হবে-

গরমকালে ঠাণ্ডা জলে স্নান করুন। স্নানের জলে বাথ সল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে স্নানের পর সতেজতা বাড়ে। বাথ সল্ট বা ডেড সি সল্ট গরম জলে মেশালে একটু বেশি সময় ধরে স্নান করতে হবে। উষ্ণ জল ত্বকের রোমকূপ খুলে দেয় আর বাথ সল্ট ইউথফুলনেস এবং রিজুভিনেশনে সাহায্য করে। তাই অন্তত ২৫ মিনিট স্নান করা দরকার।

বেশির ভাগই দিনের শেষে বাড়ি ফিরে স্নান করতে পছন্দ করেন। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়—এ কথা অনস্বীকার্য। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দিনের শুরুতে স্নান করা উচিত। এতে এনার্জি বাড়ে।

স্নান করার সঠিক নিয়ম-

স্নানের শুরুতে উষ্ণ জল ও শেষে ঠাণ্ডা জল ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের ক্ষতি হবে না আবার ক্লান্তিও দূর হবে। পাশাপাশি উষ্ণ জলে স্নান করলে রোমকূপ খুলে যায়। ফলে ধুলোবালি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ক্ষতিসাধন করে। তাই স্নানের শেষের ৩০ সেকেন্ড ঠাণ্ডা জলই ব্যবহার করুন। এতে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাবে ও ত্বক পরিচ্ছন্ন থাকবে।

স্নানের সময় প্রথমে শরীর ভিজিয়ে নিন। পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে করে স্ক্যাল্প থেকে তেল বেরিয়ে যাবে। তারপর হাতে সামান্য শ্যাম্পু নিয়ে চুলে ও স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করতে হবে। ফেনা হতে শুরু করলে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। সামান্য কন্ডিশনার চুলে মাখিয়ে মিনিট দুই অপেক্ষা করুন। স্বাভাবিক নিয়মে ধুয়ে নিন। এরপর ত্বকের উপযোগী সাবান ও বডিওয়াশ ব্যবহার করুন। যতটা সম্ভব কোমল সাবান ব্যবহার করা যায় ততই ভালো। গরমের দিনে ত্বকে ঘাম শুকিয়ে থাকে ও শীতে প্রচুর মরা কোষ জন্মায়। তাই স্ক্র্যাব করা উচিত। ত্বকের পক্ষে সহনীয় স্ক্র্যাবার ব্যবহার করুন। এবার ভালোভাবে পানি দিয়ে গা ধুয়ে ফেলতে হবে। ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ও ত্বককে সুন্দর রাখতে বডি অয়েলের ভূমিকা অপরিসীম। ভেজা ত্বকেই তেল ম্যাসাজ করে নিতে হবে। সবশেষে তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে চেপে ত্বক মুছে নিতে হবে।

স্নানের জলে ভেষজ উপকরণ মেশান-

স্নানের জলে প্রয়োজনীয় ভেষজ মেশানো হলে ত্বক ভালো থাকে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সেরে ওঠা যায়। যেমন স্নানের জলে দুধ মেশালে ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল হয়। কারণ দুধ ত্বকে পুষ্টি জোগায়। অন্যদিকে ভাতের মাড় মেশানো জলে স্নান করলে ত্বক নরম থাকে, সহজে বলিরেখা পড়ে না। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা স্নানের জলে লেবু ও লেবুর খোসা ভিজিয়ে রেখে স্নান করতে পারেন। সারা দিন সতেজ থাকার জন্য এবং ঘামের দুর্গন্ধ এড়ানোর জন্য দুই চামচ গোলাপজল স্নানের জলে মেশাতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here